রিমল তালুকদার, ভূঞাপুর: বছর না পেরুতেই দেশের অন্যতম আধুনিক অবকাঠামো ‘যমুনা রেল সেতু’র ১৬টি পিলারে ফাটলের খবর পাওয়া গেছে। এতে নতুন এ সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত এই আধুনিক রেলসেতুটি গত বছরের শেষের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের এক বছরের আগেই সেতুর পিলারে একাধিক জায়গায় সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে।
প্রকৌশলীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, নদীর স্রোত ও পানির প্রবল চাপ, কংক্রিটের মান এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে এসব ফাটল সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সেতু বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী নাইমুল হক বলেন, সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ৮ থেকে ১০টি পিলারের নিচের অংশে কিছু জায়গায় ‘হেয়ার ক্র্যাক’ দৃশ্যমান হয়েছে। এটি নির্মাণকাজের কোনো ত্রুটি নয়। এতে সেতুর কংক্রিটের অবকাঠামো বা স্থাপনার জন্য ক্ষতিকর হবে না। ফলে ট্রেন চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে না। একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে হেয়ার ক্র্যাককে আরও বড় দেখিয়ে ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে ফাঁকা স্থানগুলো মেরামতের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুতে বছর না পেরুতেই ফাটল ধরা দুঃখজনক। তারা সেতুর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক যমুনা রেল সেতুটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।
আপনার মতামত লিখুন :