জমি কেনার আশায় ৪০ লাখ টাকা বায়না দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের আঞ্জুমান ইসলাম (২৮)। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও জমি পাননি, ফেরতও পাননি টাকাগুলো। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে চরম মানসিক ও আর্থিক দুরবস্থায় ফেলে দিয়েছেন অভিযুক্ত নারী রোকেয়া বেগম(৪০)।
ঘটনাটি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আঞ্জুমান ইসলাম ২০২২ সালের ১০ আগস্ট রোকেয়া বেগমকে জমি কেনার জন্য প্রথম দফায় ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে জরুরি প্রয়োজনে বলে রোকেয়া আরও দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা নেন। মোট ৪০ লাখ টাকা হাতে পেয়েও তিন বছরেও জমির দলিল সম্পন্ন করেননি রোকেয়া বেগম। পাওনা টাকা নয়তো জমি এর জন্য পথে পথে ঘরছেন ভুক্তভোগী আঞ্জুমান ইসলাম। পরিবার কষ্টার্জিত শেষ সম্বল এই অর্থের জন্য দিশেহারা হয়ে পরেছেন তিনি। সন্তান দের ভবিষ্যৎ এর জন্য রাখা এই শেষ সম্বল এর জন্য আজ পাগল প্রায় তিনি।
ভুক্তভোগী আঞ্জুমান ইসলাম অভিযোগ করেন,
আমার স্বামী আর আমি সারা জীবনের কষ্টে জমিয়ে রাখা টাকা দিয়েছিলাম নিজেদের একটা ঘর করার আশায়। কিন্তু রোকেয়া বেগম সেই জমিও দিল না, টাকাও ফেরত দিল না। আমি এখন দিশেহারা। তিন বছর ধরে তার কাছে ঘুরে ঘুরে শুধু কাঁদছি। এখন উল্টো হুমকি দেয় আমাকে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। স্থানীয় লোকজনের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। পরিবারের শেষ ভরসা ছিল ওই টাকাটা, এখন সেটাও শেষ।
ভুক্তভোগীর চাচা আল আমিন মুন্সি বলেন, আমার ভাতিজি রোকেয়া বেগমকে বিশ্বাস করে টাকা দেয়। কিন্তু এত বছরেও দলিল করে দেয়নি। স্থানীয়ভাবে শালিস করেও ফল হয়নি। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দিতে হয়েছে। আমরা চাই, আমার ভাতিজি তার শেষ সম্বলটা ফিরে পাক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম শুধুমাত্র আঞ্জুমান ইসলামের সঙ্গেই নয়, একই এলাকার আরও কয়েকজন নারীর কাছ থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। অনেকেই এখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একই এলাকার লাকি আক্তার বলেন, রোকেয়া আমার আত্মীয়। দুই বছর আগে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে উল্টো গালাগালি করে।
এ বিষয় জানতে চাইলে রোকেয়া বেগম বলেন, আমি আঞ্জুমান এর কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলাম এবং তা ফেরত দিয়েছি। তিনি এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
এ বিষয়ে আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ চন্দ্র চৌধুরি বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোকেয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভুক্তভোগী বানাচ্ছেন। তবে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও আশা করছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :