শীতের নরম হাওয়া, সাদা কুয়াশার পর্দা আর পাহাড়চূড়ায় ভেসে বেড়ানো তুলোর মতো মেঘ—এই তিনের জাদুকরী মিলনে বান্দরবানের নীলাচল এখন যেন জীবন্ত স্বপ্নরাজ্য। প্রতিদিনই হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন প্রকৃতির এই ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যকে নিজের চোখে দেখতে। আজ শনিবারও সূর্য ওঠার আগ থেকেই ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নীলাচল।
বান্দরবানের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলাচল—সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা এমন এক জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়—মানুষ নয়, মেঘই যেন আপনার চারপাশে নৃত্য করছে। কখনো ঝাপটা দিয়ে ঢেকে ফেলে, আবার হঠাৎই মিলিয়ে গিয়ে খুলে দেয় পুরো আকাশের নীল খাতা।
**দুপুরের নীলাচল—মেঘ-রোদ-বাতাসের অপূর্ব জাদু**
শীতের শুরুতেই নীলাচলের আবহাওয়া থাকে ঠিক চঞ্চল বাচ্চার মতো—এক মুহূর্তে রোদ, পরক্ষণেই মেঘ; তার কিছুক্ষণ পর আবার ঠান্ডা বাতাসে কাঁপুনি ধরানো শীতল স্পর্শ।
দুপুরের দিকে নীলাচল ঘুরে দেখা যায়—পর্যটকদের কলরবে পাহাড়চূড়ার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। কেউ রেলিং ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে বলে উঠছেন—"আরে! মনে হচ্ছে শহরটা যেন মেঘের নিচে ডুবে আছে!" কেউ আবার নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির রঙ পরিবর্তনের খেলা দেখছেন—মনে হয়, পাহাড় যেন নিজের অ্যালবাম থেকে প্রতি মিনিটে নতুন ছবি দেখাচ্ছে।
**"এটা শুধু ভ্রমণ নয়, জীবনধারণের প্রশান্তি"—পর্যটকদের অভিমত**
পরিবার নিয়ে সুদূর সিলেট থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মোহাম্মদ সুমন হোসেন মাতব্বর জানান, চোখে নীলাচল যেন স্বর্গেরই অন্য নাম। তিনি বলেন—দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ত শহুরে জীবন থেকে বের হয়ে নীলাচলে এসে মনে হচ্ছে যেন বুকভরে প্রথমবারের মতো বাতাস নিচ্ছি। প্রকৃতির এত সৌন্দর্য এক জায়গায়—কল্পনাকেও হার মানায়।
আরেকজন পর্যটক তানজিলা আক্তার বলেন—নীলাচলে দাঁড়িয়ে আমি বুঝেছি, মেঘ কেমন করে পাহাড়ের কাঁধে মাথা রাখে। এমন দৃশ্য জীবনে কখনো ভুলার নয়।
**শিশুদের উচ্ছ্বাস—‘মেঘকে ছুঁয়েছি!’**
শীতের আমেজে ছোটদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়। পাঁচ বছরের ইরিন তো দৌড়াতে দৌড়াতে মাকে বলতে থাকে—"মা, আমি মেঘকে দেখতে পাচ্ছি! দেখো, আমার হাতে মেঘ যেন লেগে আছে!" তার মুখের সরল উত্তেজনা দেখে আশপাশের সবাই হাসিমুখে তাকিয়ে থাকে।
শীতে পর্যটক বাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা টিকিট সংগ্রহকারী মো. টিপু জানান—"শুরুতেই শীত জমে ওঠায় পর্যটক সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকিট কাউন্টারে ব্যস্ত সময় কাটছে।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, "পর্যটকদের নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন, আর যে কোনো সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :