কুবি প্রতিনিধি: "ষড়ঋতুর রদবদলে শীতের আগমন, ঠান্ডা মেখে শীতের বায়ু বইছে যে শনশন"— কবির এই কথার বাস্তবিক রূপ যেন শীতের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শীতের সকাল মানেই কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতি। সেই প্রকৃতির হিমেল হাওয়া প্রতিদিনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা লাল মাটির এই সবুজ ক্যাম্পাসে গাছের পাতায় ঝুলে থাকা কুয়াশার দানা জানান দেয় ঋতুর পরিবর্তনের শুরু। ভোরে কেন্দ্রীয় মাঠে দাঁড়ালে মনে হয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যেন সাদা চাদরে আচ্ছন্ন।
বাংলাদেশে সাধারণত শীত শুরু হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শুরুতে। কিন্তু পাহাড় আর সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাস যেন সে নিয়ম মানে না। ঋতুবদলের আগেই ঘন কুয়াশা নেমে এসে জানান দিচ্ছে— শীত এসে গেছে।
শীতের সকালে সবচেয়ে হৃদয়জুড়ানো দৃশ্যটি দেখা যায় যখন সূর্যের মিষ্টি আলো ক্যাম্পাসকে ছুঁয়ে যায়। কুয়াশাভেজা লাল মাটির ওপর সূর্যালোক পড়লে দৃশ্যটা আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। ঘাসে জমে থাকা শিশিরবিন্দু সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে ওঠে, যেন কেউ ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোর কণা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই দৃশ্য দেখেই হয়তো কবি লিখেছিলেন, "শিশিরভেজা ঘাসের বুকে রবির আলো পড়ে, হীরের মতো ঝিলিক মেরে মনটা সবার কাড়ে।" এই সময়টির রয়েছে এক আলাদা শান্তি; পাখিদের কিচিরমিচির আর ঠাণ্ডা বাতাস মিলে তৈরি করে ভোরবেলার এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ক্লাসে যেতে যেতে শিক্ষার্থীদের মুখে উষ্ণ চায়ের কাপের ধোঁয়া, গলায় জড়ানো মাফলার সব মিলিয়ে শীতের প্রথম ছোঁয়া যেন নতুন এক ছন্দ বয়ে আনে সবার জীবনে।
শীতের আগমন মানে কুবি ক্যাম্পাসে জমে ওঠে নানা আয়োজন। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে সকালের কুয়াশা উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়ে শীতপ্রেমীরা। ক্লাস শেষে বিকেলের নরম আলোয় দলে দলে শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। আর সন্ধ্যা নামলে ক্যাম্পাসের বাতাস আরও ঠাণ্ডা, আরও কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। তখন দেখা যায় টং দোকানে চায়ের কাপ হাতে বন্ধুমহলের আড্ডা কিংবা ভাপা ও চিতই পিঠার দোকানে ভিড়। রাত গভীর হলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাডমিন্টনের র্যাকেট আর শাটলের শব্দ জমিয়ে তোলে অন্যরকম একটি উত্তাপ। মধ্যরাত পর্যন্ত খেলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যায়।
কুবি ক্যাম্পাস তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের জন্যই স্বতন্ত্র, আর শীত নামলে সেই সৌন্দর্য আরও গভীর, আরও স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। লাল মাটির ক্যাম্পাসে শীত যেন এক নতুন রূপ—নীরব, শান্ত, স্নিগ্ধ; তবুও প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল ও স্মৃতিময়। শীতের এই আগমন তাই শুধু প্রকৃতির পরিবর্তন নয়; এটি হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়, যা বছর শেষে আবার ফিরে আসে, কিন্তু স্মৃতিতে থেকে যায় চিরকাল।
আপনার মতামত লিখুন :