৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চ ঘিরে রাজকীয় প্রস্তুতি

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরবেন তিনি। ফ্লাইটটি বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান। আরও থাকছে তাদের আদরের পোষা বিড়াল ‘জেবু’।

সব ঠিক থাকলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। ঢাকায় অবতরণের আগে উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবে।

ঢাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকলে সংবর্ধনা নিতে যাবেন পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকার মঞ্চে। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে মঞ্চে দলীয় নেতাদের পাশাপাশি থাকবেন দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের যুগপৎ সঙ্গী শরিক দলের শীর্ষ নেতারা। তবে মঞ্চে শুধুমাত্র তারেক রহমানই বক্তব্য রাখবেন।

৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চকে ঘিরে রাজকীয় প্রস্তুতি

দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। রাজধানীর কুড়িল মোড় থেকে কিছুটা দূরে জুলাই-৩৬ সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৮ বছর পর সশরীরে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্চে এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। সেখানে জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবির ওপর লেখা রয়েছে— ‘তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন তারেক রহমানের নিজস্ব বিশেষ সিকিউরিটি টিমের সদস্যরা।

মঞ্চ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বসানো হয়েছে কয়েকশ’ মাইক। এয়ারপোর্ট সড়ক থেকে শুরু করে পুরো মঞ্চ এলাকায় টাঙানো হয়েছে স্বাগত বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ৩০০ ফিট সড়কের গাছ রক্ষায় গাছে গাছে ঝোলানো হয়েছে সচেতনতামূলক বার্তা।

কর্মীদের স্লোগানে মুখর পুরো এলাকা। কেউ ধানের শীষের প্রতীক ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পরেছেন, কেউ মাথায় ধানের শীষের মাথাল পরে গান ও স্লোগানে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় পতাকা ও বিএনপির দলীয় পতাকায় লাল-সবুজে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।

অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই ব্যানার ও ত্রিপল বিছিয়ে সড়কের ফুটপাতে রাত যাপনের ব্যবস্থা করেছেন। পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি পতাকা, ব্যাজ, মাথার ব্যান্ডসহ নানা সামগ্রী বিক্রির জন্য বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। অস্থায়ী খাবারের দোকানও চালু হয়েছে।

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদলের সদস্য মুরসালিন রহমান জানান, তারা ৮০ জনের একটি দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেতাকে দেশের বাইরে দেখেছি। এবার সামনে থেকে দেখতে পাব—এটা স্বপ্নের মতো।”

সাধারণ মানুষের মধ্যেও তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। পূর্বাচল ও এয়ারপোর্ট এলাকার বাসিন্দারাও পরিবার নিয়ে মঞ্চ দেখতে আসছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের প্রথম অগ্রাধিকার গুরুতর অসুস্থ মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া। তবে জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩০০ ফিট এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর হাসপাতালে যাবেন।

 

দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

Link copied!