গোমতী নদীর চরে মুলা চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক আনোয়ার মিয়া

গোলাম কিবরিয়া রাকিব , ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

কুমিল্লা সদর উপজেলার সামারচর এলাকায় গোমতী নদীর চরে শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। বিশেষ করে মুলা চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় চরাঞ্চলে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সামারচর এলাকার কৃষক আনোয়ার মিয়া নদীর চরে মুলা চাষ করে সফলতার পথে হাঁটছেন।

কৃষক আনোয়ার মিয়া চলতি মৌসুমে গোমতী নদীর চরে নিজের প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে মুলার চাষ করেছেন। প্রায় এক মাস আগে রোপণ করা মুলা বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তিনি খেত থেকে মুলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত খেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আনোয়ার মিয়া জানান, চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত উর্বর মাটি মুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অল্প সময়ের মধ্যেই মুলার ভালো ফলন পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “মাসখানেক আগে মুলা লাগিয়েছিলাম। এখন ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদাও আছে। প্রতি এক হালি মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ হবে।”

তিনি আরও জানান, মুলা চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সার, বীজ, সেচ ও শ্রম বাবদ প্রায় ২০ শতাংশ জমি চাষ করতে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক তিন হাজার টাকা। অথচ ওই জমি থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মুলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ থাকবে বলে জানান এই কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সামারচরসহ গোমতী নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মুলা, পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজি ভালো ফলন দিচ্ছে। নদীর পলি পড়ে জমি উর্বর হওয়ায় এসব সবজি তুলনামূলকভাবে কম সার ও কম যত্নেই ভালোভাবে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের মতে, সঠিক সময়ে বীজ বপন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। এতে দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়া সম্ভব হয়, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ আরও জোরদার হবে। তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হলে চরাঞ্চল সবজি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গোমতী নদীর চরাঞ্চলকে ঘিরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিও হবে আরও শক্তিশালী।

Link copied!