শীতের তীব্রতায় শরীরে বাড়তি শক্তি ও উষ্ণতার প্রয়োজন হয়। এই সময়ে হাঁস বা মুরগির ডিমের চমৎকার বিকল্প হতে পারে কোয়েল পাখির ডিম। আকারে ছোট হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।
এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে যা শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে। প্রতিদিন একটি করে কোয়েলের ডিম খেলে শরীরে অভ্যন্তরীণ শক্তি সঞ্চারিত হয় এবং ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে হাড় বা জয়েন্টের ব্যথায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য কোয়েলের ডিম বেশ কার্যকর। এর পুষ্টি উপাদান হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের দুর্বলতা রোধ করে। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারীদের ডায়েটে এটি অন্তর্ভুক্ত করা বেশ উপকারী।
শুধু হাড় নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও কোয়েলের ডিমের ভূমিকা অনন্য। এতে থাকা প্রচুর প্রোটিন মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, যা ছাত্রছাত্রী বা যারা সৃজনশীল ও মানসিক পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
যকৃত বা লিভারের রোগীদের জন্যও কোয়েলের ডিম একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এতে থাকা পটাশিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। আধুনিক সময়ে যারা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান, তাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য কোয়েলের ডিম বেশ সহায়ক। এর ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন চোখের ওপর পড়া বাড়তি চাপ কমাতে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে যেকোনো উপকারী খাবারের মতোই কোয়েলের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ জরুরি। যেহেতু এতে প্রোটিনের মাত্রা অনেক বেশি, তাই প্রতিদিন একটির বেশি ডিম না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত সেবনে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া যাদের ডিমে অ্যালার্জি আছে কিংবা পেটের গুরুতর সমস্যা বা সংক্রমণ রয়েছে, তাদের কোয়েলের ডিম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় নতুন কিছু যোগ করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার মতামত লিখুন :