রাজশাহীতে ট্রায়ালের নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে ‘উধাও হয়ে যাওয়া’ যুবদলের মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়কে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
এর আগে গ্যারেজ থেকে ট্রায়ালের নামে এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ। এই অভিযোগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানির পর আলোচনা সমালোচনার মুখে যুবদলের মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়কে বহিষ্কারের কথা জানালো সংগঠনটি।
মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে এসএম শফিক মাহমুদ তন্ময়কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত নেতার অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।’
তবে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তন্ময় দাবি করেন, গাড়িটা তার কেনা। গ্যারেজ থেকে ট্রায়ালের নামে নেওয়ার অভিযোগ অসত্য। তবে এখনও এফিডেভিট করা হয়নি।’ বহিষ্কার প্রসঙ্গে তন্ময় বলেন, ‘দল তো আমাকে শোকজও করেনি। হঠাৎ এটা দেখছি। সমস্যা নাই। আমি সঠিক আছি। সবকিছুই প্রমাণ হবে।’
রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তন্ময়ের বিরুদ্ধে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ অভিযোগ করছেন গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে জিপটি (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ ও ছয় লাখ দাম করে ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে নিয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আর ফেরত দেননি। গত ১৪ ডিসেম্বর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। ২২ ডিসেম্বর তিনি আদালতে মামলা এবং বিষয়টি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেন। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে রোববার তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :