বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৮

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ইরানে ১৬ দিন ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআরএনজিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত ৯ জন শিশু-কিশোর রয়েছে এবং এই সময়ে আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ ৫৪৪ জন নিহতের খবর জানিয়েছিল। 

দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হলেও তেহরানের হাসপাতাল ও মর্গগুলোর ভিডিওতে লাশের স্তূপের যে ভয়াবহ দৃশ্য সামনে এসেছে, তা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

ইরানের এই রক্তক্ষয়ী দমনাভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেত্তে কুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরান সরকারকে অবিলম্বে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে, মৌলিক স্বাধীনতার অধিকার একটি সার্বজনীন দাবি এবং যারা এই অধিকার রক্ষায় লড়াই করছেন, ফ্রান্স তাঁদের পাশে আছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ।

পশ্চিমা বিশ্বের এই কড়া বার্তার জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে। 

আরাগচি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল-সমর্থিত কিছু ‘সন্ত্রাসী’ সংবাদ সংস্থার ছদ্মবেশে ইরানে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি ব্রিটিশ সরকার দূতাবাস রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে তেহরান তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। আরাগচি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্ব বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে মূলত ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে তেহরানের বাজারগুলো থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যখন নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি আরও জোরালো আন্দোলনের ডাক দেন। 

বর্তমানে ইরানের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ রিয়ালের চরম দরপতন ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, সরকার যদি নমনীয় না হয় তবে সামনের দিনগুলোতে হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Link copied!