ডিজিটাল বিনোদনের যুগে বাংলাদেশে টেলিভিশনের ব্যবহার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে পাশাপাশি চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। প্রচলিত ক্যাবল বা স্যাটেলাইট নির্ভর টিভির জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভি। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কারণে স্মার্ট টিভির বাজার দিন দিন বাড়ছে।
স্মার্ট টিভির চাহিদা বেশি কেন
একসময় টেলিভিশন মানেই ছিল ডিশ ক্যাবলের চ্যানেল বা স্যাটেলাইট নির্ভর বিনোদনের মাধ্যম। তবে বর্তমানে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে টিভির ব্যবহার ধরণ বদলে গেছে। স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভির মাধ্যমে এসব অ্যাপ সরাসরি ব্যবহার করা যাচ্ছে যা ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ছে। স্মার্টফোন নির্ভরতার পাশাপাশি বড় পর্দায় অনলাইন কনটেন্ট দেখার আগ্রহ থেকেই অ্যান্ড্রয়েড টিভির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভির বাজার
বর্তমানে দেশের বাজারে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে অনেক ব্র্যান্ডের স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভি পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি লোকাল অ্যাসেম্বলড ও চীনা ব্র্যান্ডের অনেক টিভিও দখল নিয়েছে বাজারের বড় একটি অংশ। এর ফলে ক্রেতারা কম দামে বড় স্ক্রিন ও স্মার্ট গুগল টিভি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দামের কম বেশি হওয়াতে স্মার্ট টিভি এর ফিচারের কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
ফিচারের দিক থেকে অ্যান্ড্রয়েড টিভি
টিভিতে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের কারণে গুগল প্লে স্টোর, ভয়েস সার্চ, স্ক্রিন কাস্টিং, ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকে। বর্তমান বাজারে অনেক টিভিতে 4K রেজোলিউশন, HDR এবং ডলবি অডিওর মতো আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ক্লাস, ইউটিউব লার্নিং কনটেন্ট ও ভিডিও কলের জন্যও অনেক পরিবার স্মার্ট টিভিকে ব্যবহার করছে।
সচেতনতা
বাজারের সকল টিভি তে একই ধরনের ফিচার বা স্পেসিফিকেশন থাকে তাই সব স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভির মান একরকম নয়। অনেক টিভিতে পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন, কম র্যাম বা দুর্বল প্রসেসরের কারণে কিছুদিন ব্যবহারের পর গতি কমে যায়। এছাড়া অফিসিয়াল গুগল সার্টিফিকেশন না থাকলে কিছু অ্যাপ ঠিকভাবে কাজ করে না। তাই এমন সকল ফিচার বিবেচনায় নিয়ে গুগুল টিভি ক্রয় করা ভালো।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
টেলিকম ও ব্রডব্যান্ড সেবার মান উন্নতির ফলে আগামী দিনে স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট ও স্মার্ট হোম সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে টিভির ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকির দিকগুলো বিবেচনায় রেখে সঠিক তথ্য জেনে টিভি নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার মতামত লিখুন :