সাদ্দাম-গাদ্দাফি-খামেনি: যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শিকার কোন নেতা?

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬, ০১:৪১ এএম

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংঘাতের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু বহুবার বৈশ্বিক ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতাদের নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো নতুন করে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বশেষ শনিবারের (১ মার্চ) হামলায় বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তার বাসভবনসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর আগে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত নেতা ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর তিকরিত থেকে আটক হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মার্কিন সমর্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার দিনে বাগদাদে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ন্যাটো সমর্থিত অভিযানের সময় নিহত হন। সির্ত শহর থেকে পালানোর সময় তার গাড়িবহরে বিমান হামলা চালানো হলে তিনি আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আধুনিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলাগুলোর একটি ছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হামলায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এক বড় ধরনের বিমান হামলায় নিহত হন। মাটির গভীরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারে বৈঠকের সময় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন নিউ অর্ডার’।

একই বছরের জুলাইয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ ইরানের তেহরানে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণে নিহত হন। তিনি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আগে থেকেই সেখানে বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।

আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আক্রমণ কোন দেশে হবে, কোন শীর্ষ নেতার কাল হবে আমেরিকা; সেটাই এখন বিশ্ব রাজনীতির গভীর উদ্বেগের বিষয়।

Link copied!