জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। বিচার সংস্কার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম নতুন করে শুরু করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের যে গণরায়ের ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রায়কে বাতিল করতে আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা হচ্ছে।’
চট্টগ্রামে এনসিপির উদ্যোগে বিভাগীয় সাংগঠনিক ইফতার মাহফিলের আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। আজ সোমবার নগরে পাঁচলাইশ এলাকায় দ্য কিং অব চিটাগাং কনভেনশন সেন্টারে এই আয়োজন করে এনসিপির বিভাগীয় কমিটি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আদালতকে দলীয় এজেন্ডার হাতিয়ার বানানোর পরিণতি ভয়াবহ হবে। অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার এ পথেই পতনের দিকে গিয়েছিল। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানাই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। জনগণের রায়ের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হোক।’
চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখানে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নেতৃত্বে এ লড়াই সফল হবে না। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর এই শহরে ঠাঁই না হয়।
আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির আস্ফালন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, এনসিপি এবং পতিত আওয়ামী লীগ একসঙ্গে চলতে পারে না। যে এলাকায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম শুরু হবে, সেখানে হয় আওয়ামী লীগ থাকবে, নয় এনসিপি থাকবে। যে এলাকায় ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কার্যক্রম শুরু হবে, সেখানে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আপনাদের দায়িত্ব।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি টেনে এনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। যেকোনো পরাশক্তি—সে যেই হোক, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সরকারকে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।’
আপনার মতামত লিখুন :