আন্তর্জাতিক ডেস্কইরান ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মার্কিন অস্ত্রাগারে টান পড়েছে। সিএনএন-এর সোমবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্রমাগত হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পেন্টাগন এখন এক ভয়াবহ সামরিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে ‘টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল’ এবং ‘এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর’-এর মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এই রিজার্ভ খালি হতে চলায় পরবর্তী ধাপের হামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence) অনেকটা দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ভেতরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা, ড্রোন তৈরির কেন্দ্র এবং তাদের নৌ-সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরান যুদ্ধের কারণেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়েছে তাদের বিখ্যাত ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সাথে গত চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য এই প্যাট্রিয়ট মিসাইল মজুতের একটি বড় অংশ ব্যয় করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট মিসাইলের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের ১১টি নৌযানই ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া রোববার রাতে মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো ইরানের সুরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :