নিজস্ব প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানাধীন এলাকায় চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন(সং ২০২০) এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা রুজু হয়।
১৪ই মার্চ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর বয়স ১৪ বছর। সে ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের সহকারী হিসেবে কাজ করে। তার নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জ। ভুক্তভোগী জানায় সে ৪ মাস বয়সে তার মা এবং ৪ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায় । গত ১০ বছর সে তার সৎ মায়ের কাছে প্রতিপালিত হয়েছে। গত দুই মাস আগে সৎ মায়ের শারীরিক নির্যাতন হতে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়ে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ নেয় ।
প্রায় মাস ছয়েক ধরে মোবাইলের মাধ্যমে জিসান ইসলাম নামের facebook আইডি পরিচালনাকারী একটা ছেলের সাথে ভুক্তভোগী প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক ব্যবহারকারী বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীকে দেখা করার প্রস্তাব দিয়ে এসছে বলে জানা যায়।
গত ১৪/০৩/২৬ ইং তারিখে ভুক্তভোগী ময়মনসিংহ থেকে উক্ত ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারীর সাথে দেখা করার জন্য বাসযোগে রাত ৯ টায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এ এসে পৌঁছায়। জিসান ইসলাম নামের ফেসবুক হতে তাকে জানানো হয় সে কোথায় আসবে সে অনুযায়ী ভালুকা বাসস্ট্যান্ড হতে একব্যক্তি ভুক্তভগীকে রিসিভ করে এবং সিএনজিতে ওঠায়। এরপর ভুক্তভোগীকে সিএনজিযোগে পাঁচগাও নামক স্থানে নিয়ে যেতে থাকলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে সে সেখান হতে অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায়। আসামীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে বলপূর্বক পাচগাও খালের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সেখানে উপস্থিত আরো ৩জন ব্যক্তি সকলেই সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীকে রাত ১০ টা হতে ১১ টা ব্যাপী পালাক্রমে সকলেই ধর্ষণ করে ভিকটিমকে খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী জানায়। পরবর্তীতে দূরবর্তী স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ- আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং থানা পুলিশ কে যৌথভাবে কাজ করে সংশ্লিষ্ট সকল আসামীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সনাক্ত করে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবি পুলিশ এবং ভালুকা মডেল থানা পুলিশের তৎপরতায় তথ্য- প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তরা হলেন, ১। মো. হোসাইন(২১), পিতা- আশু মিয়া আশ্রাফ আলী, সাং- পাঁচগাঁও, থানা- ভালুকা, জেলা- ময়মনসিংহ, ২। মো. ফারুক আহাম্মেদ(১৭), পিতা- আব্দুল মোতালিব, মাতা- উম্মে কুলসুম, সাং- পাঁচগাঁও, থানা- ভালুকা, জেলা- ময়মনসিংহ, ৩। মো. আরিফ(১৭) পিতা- মো. শহীদ, মাতা- মোছা. পারভীন আক্তার, সাং- পাঁচগাঁও(ঢাকের ভিটা), থানা- ভালুকা, জেলা- ময়মনসিংহ, ৪। মো. মেহেদী হাসান(২০), পিতা- মঞ্জুরুল হক , মাতা- রওশন আরা খাতুন সাং- পাঁচগাঁও, থানা- ভালুকা, জেলা- ময়মনসিংহ। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছে।পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের সকলেই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের নিমিত্তে অভিযান চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :