দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহতদের স্মরণে এবং নিরাপদ সড়ক ও জেলা বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেট বন্ধ করে উন্নতমানের বাস সার্ভিস চালু, অদক্ষ চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ, চালকের সহকারী হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ সহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মানববন্ধনকারীরা।
তারা বলেন, রাজবাড়ীতে সোহাদ্য, রাবেয়া, জামান, সপ্তবর্ণা সহ মাত্র ৪/৫টি বাস চলাচল করে। এই বাসগুলোর মান খুবই খারাপ। দেশে অনেক ভালো ভালো বাস কোম্পানি রয়েছে। তাদেরকে রাজবাড়ী দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। আমরা উন্নতমানের বাস সার্ভিস চাই। পুরাতন মানহীন সার্ভিস নিতে চাই না। রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ভালো সার্ভিস পাচ্ছি না। কিন্তু টিকিটের দাম তো ঠিকই উন্নতমানের বাস সার্ভিসের মতো নিচ্ছে। তাছাড়া তাঁরা ভালো মানের বাসও সড়কে নামাচ্ছে না। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না। দেশের অন্যান্য জেলার মতো রাজবাড়ীতেও সব ভালো বাস চাই।
মানববন্ধনে বাস ডুবিতে নিহত জোসনা বেগমের শিশু সন্তান আলিফ, জোসনার মা শাহিদা বেগম, পৌর বিএনপি নেতা এম এ খালেদ পাভেল, শিক্ষার্থী তানভীর মাহাদি রিলিফ, মাহিন শিকদার তামিম, হাসিবুল ইসলাম শিমুল বক্তব্য রাখেন।
এ সময় নিহত জোসনা বেগমের বড় ছেলে জিসান সহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা জেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে যান তাদের দাবি সমূহ উপস্থাপনের জন্য।
জানা গেছে, ২৫ মার্চ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকাগামী সোহাদ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাট দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নারী-শিশু ও গাড়ির চালক সহ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি।
আপনার মতামত লিখুন :