মিরসরাইয়ে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১০

নুর হোসেন মিয়া , মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ফরেস্ট অফিস এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উত্তেজনার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে উভয় পক্ষকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়, যা পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

আহতদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল ও মো. ফারুককে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে এক হাজার টাকা এবং বালুবোঝাই ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হতো। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই চাঁদা তোলার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার হাতে। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচনের পর এই নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হয়ে নূর উদ্দিনসহ অন্য একটি পক্ষের কাছে চলে যায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের ওপর আলমগীরের অনুসারীরা হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্রাক ও বালুর গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় এবং মাদক নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপির এই দুই পক্ষ প্রায়ই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগেও বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

Advertisement

Link copied!