গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত "জব্দ করা ঘোড়া গোপনে বিক্রি" সংক্রান্ত সংবাদকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে দাবি করেছেন। এ ধরনের সংবাদে তাঁর পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো একটি লিখিত প্রতিবাদলিপিতে খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, একটি স্বচ্ছ ও আইনানুগ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর বদলি সংক্রান্ত তথ্যকে ‘ঘোড়া কাণ্ডের’ সঙ্গে যুক্ত করে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ মার্চ অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) একেএম আওলাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে জনস্বার্থে কালিয়াকৈর থানার ওসিসহ মোট সাতজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এর অংশ হিসেবে খন্দকার নাসির উদ্দিনকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) পদায়ন করা হয়। তবে কিছু মহল এই নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ‘ঘোড়া কাণ্ডে বদলি’ হিসেবে অপপ্রচার চালিয়েছে।
সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, গত ১৭ মার্চ উদ্ধার করা ৯টি ঘোড়া থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় গোপনে ৮টি বিক্রি করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার নাসির উদ্দিন স্পষ্টভাবে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।" প্রকৃতপক্ষে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে একটি বৈধ কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩০ মার্চ প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, নিলাম কার্যক্রম শুরুর আগেই তাঁকে ডিএমপিতে বদলি করা হয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গোপনে বিক্রির’ অভিযোগ শুধু অসত্যই নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
এছাড়া গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা মন্তব্য করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। অথচ কিছু গণমাধ্যমে বিষয়টি একপেশেভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, "দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূলনীতি হচ্ছে তথ্য যাচাই-বাছাই ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"
তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর সংবাদ অবিলম্বে সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
আপনার মতামত লিখুন :