বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তা দিয়ে মুখ ঢেকে না থাকে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি কার্যপত্র জারি করে বিষয়টি জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর নতুন করে কাউকে এতে যুক্ত হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইংরেজি বা অন্য ভাষার কিংবা ভিন্ন উদ্দেশ্যের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নববর্ষের সব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলা নববর্ষ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—র্যাব, পুলিশ, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল থাকবে।
ইভটিজিং, পকেটমার ও উশৃঙ্খলতা প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। জনসমাগমে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্ক-এ ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন এবং মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবর-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিকেল ৫টার পর জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠানেও এই সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কার্যপত্রে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানস্থলে আগতদের সুবিধার্থে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
এছাড়া বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব সিনেমা হলসহ জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকাগুলোর প্রতিও বাড়তি নজর রাখতে হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার ও সিএমএইচ প্রস্তুত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ নিয়ে অপপ্রচার রোধে পুলিশ সদর দপ্তর, র্যাব, এসবি ও সিআইডিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকতে বলা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকায় কার ও মোটরসাইকেল রেসিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনাও কার্যপত্রে জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :