ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে: মোসাদ প্রধান

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ঘোষণা করেছেন, ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে তাদের গোপন অভিযান সমাপ্ত হবে না। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) হলোকাস্ট স্মরণ দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

বার্নিয়া প্রকাশ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মোসাদের এজেন্টরা ‘সরাসরি তেহরানের হৃদপিণ্ডে’ অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তার মতে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীকে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইসরায়েলের দিকে ধাবমান হুমকিগুলো নসাৎ করে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।

মোসাদ প্রধান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধের ময়দানে লড়াই থেমে যাওয়ার মানেই এই নয় যে মোসাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেছে। তিনি জানান, তেহরানে সরাসরি বিমান হামলার পরবর্তী সময়ের জন্য তারা আগে থেকেই সুনিপুণ পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যাতে অভিযানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়। 

বার্নিয়া জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের এই আমূল পরিবর্তনকামী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মোসাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ হবে না। মূলত তেহরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোকেই তিনি তাদের বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

ডেভিড বার্নিয়া আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। মোসাদ প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। 

বিমান হামলার পর ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার মাঝেই বার্নিয়া এই নতুন অভিযানের ঘোষণা দিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, মোসাদের গোয়েন্দারা ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বার্নিয়ার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে। ইসরায়েল সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলায় কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। 

হলোকাস্টের মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির দিনে দেওয়া এই বক্তব্যে বার্নিয়া প্রকারান্তরে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না এবং শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানতে তাদের গোয়েন্দা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।

Link copied!