শিবিরকে যারা গুপ্ত বলে তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলকে হায়নার মতো শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার সেই পুরোনো কর্তৃতবাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ সরকারের সেই আশা পূরণ করতে দেবে না।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে। সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম আরো বলেন, দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে। আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এ সরকার কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে ফিরে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আয়নার মতো লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসন আর মেনে নেবে না।

 

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজকে যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির গুপ্ত উপদেষ্টারা ছিল। যারা এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঝিনাইদহ শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের মানুষ কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে ফাঁসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সামনে নতুন করে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসন ফেরার চেষ্টা করছে। জনগণ আর কখনো সরকারকে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বগুড়ায় একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জামায়াতের ওপরে নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে এই সরকারকে। যে কারণে সরকার চাইলেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরি শুরু করেছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে নির্বাচনের আগে চার মাস ধরে দফায় দফায় সংলাপ হয়েছে। ৩৩টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। দুঃখের বিষয়, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দশটি পয়েন্টে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়। অধিকাংশ দল সংবিধান সংস্কার ঐকমত্যে পৌঁছালে বিএনপি তার বিরোধিতা করেছে। এখন তারা গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, আমরা বহু রক্ত দিয়েছি, দেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে। আমরা আর রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাই না। সরকার জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন না করে, জনগণই আবার রাস্তায় নেমে আসবে। আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। রাজপথে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় আমরা জানি। দেশের মানুষ জানে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেবসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!