সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প উদ্বোধন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু: তারেক রহমান

বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস হলেও এরই মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনভোগান্তি কমানো। শনিবার সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবার ও কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছে। প্রাথমিকভাবে ৭ থেকে ৮টি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে, যারা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।” এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময়কার ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, এটি তারই একটি আধুনিক ও সম্প্রসারিত রূপ।

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে আটকে ছিল। তিনি জানান, ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “সড়ক যত বড় করা হবে, তত বেশি যানবাহন বাড়বে এবং যানজটও বাড়বে। তাই টেকসই সমাধানের জন্য রেলপথ উন্নয়ন অপরিহার্য।” এই লক্ষ্যেই ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যাদের ৮০ শতাংশ নারী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ এবং রোগ প্রতিরোধে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বন্ধ কলকারখানাগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে এগুলো সচল করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সিলেটের বিদ্যমান আইটি পার্ক দ্রুত চালু করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৃষ্টির সময় নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি।” তিনি জানান, উদ্বোধনকৃত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

নদী দূষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হয়ে উঠছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

Link copied!