ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি–বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকালের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে যেসব নীতি, সিদ্ধান্ত ও চুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একইসঙ্গে ওই সময় গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম ও সুপারিশের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
এর আগে একই আইনজীবী অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও রিট করেছিলেন, যা উচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়।
পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলও খারিজ করা হয়। সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে সাংবিধানিকভাবে বৈধতা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে এবং ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির অনুরোধে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট আগেই রাষ্ট্রীয় শূন্যতা মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত দিয়েছিল, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে এমন সরকার গঠনের সাংবিধানিক সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
নতুন এই রিটকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তসমূহের আইনগত ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ বিচারিক ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আইনাঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।
আপনার মতামত লিখুন :