গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশ পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। দূষিত পানি, ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকটে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড় ও চামড়াজনিত নানা সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০-র বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

সূত্র : শাফাক নিউজ

Link copied!