দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুপ্ত সম্ভাবনা বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান শিক্ষাক্রম আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, মেধা পাচার রোধ করে দেশে মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও লালনের মাধ্যমে একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিশেষ ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ বা উদ্ভাবনী অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসানের পর নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তরুণ প্রজন্মের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি সীমিত সম্পদের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল ডিগ্রিনির্ভর হবে না, বরং অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খানসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা সভায় অংশ নেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে সরকারের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানান।
আপনার মতামত লিখুন :