মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছিলেন উসাইমং মারমা নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিহত মাইলস্টোন স্কুল শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা।
তবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফের দাবি, মামলার আবেদনকারী উসাইমং মারমা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এজেন্ট। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়।
উসাইমং মারমা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা। সম্প্রতি তিনি ফেইসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, মামলার আবেদন করার পর তার রাঙামাটির বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
উসাইমং মারমা ওই অভিযোগ তোলার দুই দিনের মাথায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ আনল এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন।
এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, মামলার আবেদনকারী উসাইমং মারমা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া দরকার। তার অতীত ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব তথ্য ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, তার অনেকগুলোই যাচাই না করে ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, মামলাটা কত মাস পরে করা হয়েছে? মামলা করেছে কে? আপনি (সাংবাদিক) তার নাম জানেন? উসাইমং মারমা। আমি অনুরোধও করবো—উসাইমং মারমা কে, তার ব্যাকগ্রাউন্ড কী, সে কোথায় থাকে, উনার সম্পর্কে একটু খোঁজ-খবর নেন। ক্লু দিলাম এতটুকুই।
সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, কিছুদিন আগেও সন্তু লারমার স্ত্রী কানাডায় একটা কনফারেন্স করেছে। ওইখানে সে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী পাহাড়ে এই হয়েছে ওই হয়েছে বলেছে। এটা হলো (মামলার আবেদনকারী) কুকি-চিন এই যে তারা আছে, এদেরই একটা এজেন্ট, মানে অংশ। আমি শুধু এতটুকু ক্লু দিলাম, বাকিটা আপনি আরও ভালো ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট আই থিংক সো, আপনি আরও ভালো বের করতে পারবেন।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে যেসব আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, তার অনেকাংশই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।
সংগঠনটির মতে, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ সামনে আসার পর থেকেই একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :