কারাগারে অসুস্থ সাবেক সিনিয়র সচিব (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মো. জাহাঙ্গীর আলম। রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিপন (৩৬) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য তাকে হুইলচেয়ারে আদালতে আনা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে কারাগার থেকে এনে হুইলচেয়ারে করে লিফটে আদালতে তোলা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোনার টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আজ (বুধবার) আদালতে এ সাবেক সচিব জাহাঙ্গীরকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে আসে। তিনি খুব অসুস্থ। তাকে এ অবস্থায় শুধুমাত্র হেনস্তা করার জন্য হুইল চেয়ারে করে আনা হয়েছে। এ মামলাটি করা হয়েছে ২৪ সালে। ১৯ মাস হয়ে গেছে। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আসেনি। তিনি সচিব থাকাকালীন সময়ে শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্তের সুযোগ ছিল না। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এদিকে মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক দশটায় কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট ডিআইটি বাজার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। ওই সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে ভুক্তভোগী রিপন গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল-হাজতে রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :