বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের (বিবিএফ) চলমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল সংস্থা FIBA। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এর কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিকে ক্রীড়াঙ্গনে “সফট ওয়ার্নিং” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১২ মে ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে ফিবার এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক হেগপ খাজিরিয়ান এবং ফিবার হেড অব লিগ্যাল অ্যান্ড জেনারেল কাউন্সেল জেমস লেমবয় স্বাক্ষর করেন। চিঠিটি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান শেমিম আকা নওয়াজের নিকট। একই সঙ্গে কপি দেওয়া হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে।
ফিবার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে ফিবার প্রত্যাশা ছিল, এই অ্যাডহক কমিটি হবে সাময়িক ব্যবস্থা এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত প্রশাসনিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
চিঠিতে ফিবা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে—
১. বর্তমানে বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের প্রশাসনিক অবস্থা কী;
২. নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি কতদূর এবং কোনো নির্বাচনী সময়সূচি অনুমোদিত বা প্রস্তাবিত হয়েছে কিনা;
৩. নির্বাচন আয়োজন ও নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফিবা আগামী ২২ মে ২০২৬-এর মধ্যে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের এ ধরনের ভাষা কূটনৈতিক হলেও এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা, যা ভবিষ্যতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটির পরিবর্তে অ্যাডহক ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেডারেশন পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের বাস্কেটবলের উন্নয়ন, খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং ফিবার সঙ্গে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন মহল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নতুন অ্যাডহক কমিটি পুনর্গঠন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বাস্কেটবলের আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ফিবার এই চিঠি কেবল প্রশাসনিক আপডেট চাওয়া নয়; বরং এটি বাংলাদেশের বাস্কেটবল প্রশাসনে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত কাঠামো দ্রুত ফিরিয়ে আনার একটি স্পষ্ট বার্তা। ওযাকিবহাল মতে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মদদপুষ্ঠ এডহক কমিটি বাতিল করে উপযুক্ত এডহক কমিটি করে দ্রুত নির্বাচিত কমিটির নিকট বাস্কেটবল টিম উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
আপনার মতামত লিখুন :