কোরবানি কেন ওয়াজিব?

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারও উপস্থিত হচ্ছে পবিত্র জিলহজ মাস। এই মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মহিমান্বিত আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি করা একটি ‘ওয়াজিব’ বা অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত। কিন্তু কেন এই কোরবানি ওয়াজিব এবং এর গুরুত্বই বা কতটুকু, তা প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর হুঁশিয়ারি

কোরবানি যে একটি ওয়াজিব আমল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় নবী করীম (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

সামর্থ্য থাকার পরও যারা এই ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে তাদের প্রতি নবীজির (সা.) এই কঠোর হুঁশিয়ারিই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল ঐচ্ছিক কোনো আমল নয়, বরং একটি আবশ্যকীয় ইবাদত।

সহিহ বোখারির আলোকে দলিল

বোখারি শরিফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’-তে বর্ণিত ৯৮৫ নম্বর হাদিসটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাদিস অনুসারে, নবী কারিম (সা.) ঈদের নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর খুতবা দিলেন এবং তারপর পশু জবেহ করলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে পশু জবাই করে ফেলে, তাকে ওই পশুর বদলে পুনরায় আরেকটি পশু কোরবানি দিতে হবে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, কোরবানি যদি ওয়াজিব না হতো, তবে নামাজের আগে জবেহ করার কারণে পুনরায় তা আদায় করার (কাজা করার) নির্দেশ দেওয়া হতো না। ভুল সময়ে করার কারণে পুনরায় আদায়ের এই নির্দেশই প্রমাণ করে যে সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিশান

বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে (২৩তম খণ্ড, ৮০ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন যে, কোরবানির বিধান ইসলামের একটি সুষ্পষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, কোরবানি হলো ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই সুমহান নিদর্শনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তা যথাযথভাবে পালন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

উৎসব নয়, বরং একনিষ্ঠ ইবাদত

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কোরবানি কেবল গোশত খাওয়া বা সামাজিক কোনো উৎসবের নাম নয়। এটি একটি মহান ইবাদত যা অত্যন্ত যত্ন ও গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হয়। অন্যান্য ওয়াজিব আমল আমরা যেভাবে গুরুত্বের সাথে পালন করি, কোরবানিও ঠিক সেভাবেই তাকওয়ার সাথে আদায় করা উচিত।

 

Link copied!