দীর্ঘদিন পর আবারও শিক্ষক সংকট নিরসনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত প্রশাসনের আমলে স্থগিত হওয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ইবির নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতীতের বিতর্ক মুছতে এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে ঘণ্টা ব্যাপী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩ জন প্রার্থী।
জানা যায়, ঘণ্টাব্যাপী চলা এই পরীক্ষায় নিয়োগ প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক লিখিত প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতি প্রশ্নে ১২.৫০ নম্বর হিসেবে মোট ৪টি প্রশ্নে ৫০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রার্থীরা। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, "শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা, অস্বচ্ছতা কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা শঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।"
তিনি বলেন, "এখানে মেধা ও যোগ্যতার বাইরে অন্য কোনো কিছুর সুযোগ নেই। নিয়োগ কমিটিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কোনো ধরনের তদবির ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। বিষয়টি আমি নিজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।"
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে এই বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধের নিমিত্তে নির্বাচনের আগে কোন নিয়োগ কার্যক্রম না করতে তৎকালীন উপাচার্যকে আহবান জানায় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব ইবি শাখা।
অনুরোধ উপেক্ষা করে নিয়োগ বোর্ডের তারিখ ঘোষণা করলেও বিভাগীয় সভাপতি উপস্থিত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে সেদিন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিশসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী বিক্ষোভ করে।
আপনার মতামত লিখুন :