রাজনগরে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা

মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদ , মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

রাজনগরে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা

মৌলভীবাজার: সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় এবার তাদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৪ জনের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ডা. ছাদিক আহমদ, রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীনদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব। এই পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দীর্ঘ সময় পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করেন। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

পরিবারটির করুণ অবস্থার খবর দৈনিক প্রতিদিনের কাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাকও প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!