এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক ও বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জলসিড়ি আবাসিক প্রকল্পের জয়িতা ভবনের ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তল্লাশি করে 'সাদা স্বর্ণের' অলঙ্কার মিলেছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম জিয়াউল আহসানের জলসিড়ি আটতলা বাড়িতে ইনভেন্টরির কার্যক্রম চালায়। স্বর্ণ ও হোয়াইট গোল্ডের অলঙ্কারগুলো প্রাথমিক যাচাইয়ে আসল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া দামি আসবাবপত্র, চেকবই, মানি রিসিট ও পোশাকসহ অন্তত শত কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তবে ইনভেন্টরি কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি; চূড়ান্ত তালিকা করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে দুদক।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে ইনভেন্টরির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিছু বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জিয়াউল আহসানের ঢাকায় একটি আটতলাসহ পাঁচটি বাড়ি, একটি বাগানবাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া দুটি জিপ গাড়ি, শেয়ারবাজারে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ, এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যাংক হিসাবে জমার তথ্য রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশের প্লট ও ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্যও পাওয়া গেছে।
দুদক আরও জানায়, জিয়াউল আহসান দুবাইয়ের একটি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ও আরেকটি হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন। মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক হিসাবেও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০১৭ সালে তিনি অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড ও ফোনকলে আড়িপাতার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট জিয়াউল আহসান ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া জিয়াউল আহসান পরবর্তীতে র্যাব, এনএসআই ও এনটিএমসিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :