বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ অর্জনের জায়গা নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ অর্জনের জায়গা নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সনদ অর্জনের জায়গা নয়; একই সাথে এখানে দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এই দক্ষতা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে, তখন প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন যেন সুখকর হয়, ক্যাম্পাসে নিরাপদ হয়, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে সফট স্কিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পারে তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। প্রত্যেকের ডিজিটাল লিটারেসি থাকতে হবে, কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় নিজ দেশে এবং দেশের বাইরে মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং নিজের মতো করে সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের যোগ্যতা অর্জন করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছি। তার মানে হচ্ছে, তুমি তোমার শিক্ষা জীবনের একটি নির্দিষ্ট অংশ—সেটা দুই মাস হতে পারে, তিন মাস হতে পারে, চার মাস হতে পারে, সেটা আমরা ডিফাইন করব—সেটি তুমি ইন্ডাস্ট্রিতে সময় কাটাবে, হাতে কলমে শিখবে। যখন আমরা ইন্ডাস্ট্রি বলছি, যেকোনো ধরণের ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে; সেটা প্রোডাকশন ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে, সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে, সরকারি অফিস হতে পারে, বেসরকারি অফিস হতে পারে। ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তুমি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে। এই সুযোগটা আমরা ম্যান্ডেটরি করব এবং সেই সময় নিশ্চিতভাবে শিক্ষার্থীরা পেমেন্টের আওতায় আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকার সবসময় সমতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অসমতা বা বৈষম্যের বিষয়টি তরুণদের মধ্যে আরেকবার জাগ্রত না হয়, আরেকবার যাতে তাদেরকে সমান সুবিধার জন্য কখনো রক্ত ঝরাতে না হয়, আমরা সে বিষয়ে সচেতন আছি। আমরা যখন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন করব, তখন যেকোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক কুষ্টিয়াতে বসে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ২৪ ঘণ্টা কানেক্টেড থাকতে পারবে। প্রান্তিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশে থাকবে না। চার অথবা পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা যখন এখান থেকে পাশ করে বের হবে, তারা হবে এ দেশের সবচাইতে দক্ষ, কম্পিটেন্ট গ্র্যাজুয়েট।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।

সিয়াম সরিষা
Link copied!