ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম বদলাতে এবার সরব হয়েছে বিজেপি। রাজ্যের বর্তমান নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ শুধু একটি নাম নয়, এর সঙ্গে ১৯৪৭ সালে রাজ্যটির সৃষ্টির ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। তাই রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি জানান বিজেপির রাজ্যসভার এই সদস্য।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ভারতের কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’ করার উদ্যোগ নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন শমীক ভট্টাচার্য।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কেরালা (নাম পরিবর্তন) বিল নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য কেরালার নাম ‘কেরালম’ করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের মানুষ কয়েক দশক ধরে নাম পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। ‘কেরালম’-এর মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
পরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তৃণমূল সরকার রাজ্যের নাম শুধু ‘বেঙ্গল’ করার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল। এমনকি কংগ্রেসও বলেছিল, বাংলার হিন্দুদের স্বার্থে একটি আলাদা রাজ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে শুধু ‘বেঙ্গল’ করা হলে আলাদা রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি অসম্মান করা হবে বলেও মন্তব্য করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শুধু একটি নাম নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে আছে। আমরা (ওয়েস্ট বেঙ্গল) নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করতে চাই।
এসময় তিনি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও কথা বলেন। তার দাবি, বাংলার ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্ম যেমন রয়েছে, তেমনি এর বিরোধিতার ঘটনাও রয়েছে।
সিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজাফফর আহমেদের আত্মজীবনীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘আনন্দমঠ’কে ঘৃণায় পরিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। মুজাফফর আহমেদের বরাত দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বন্দে মাতরম ও আনন্দমঠ ঘৃণায় পরিপূর্ণ। আমার মতো একজন মুসলিমের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া, এনডিএর আরেক সদস্যের উত্থাপিত বিহারের রাজধানীর নাম পাটনা থেকে পাটলিপুত্র করা এবং নালন্দা জেলার একটি রেলস্টেশনের বর্তমান নাম বখতিয়ারপুর পরিবর্তনের দাবিকেও সমর্থন করেন তিনি।
আলোচনায় রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার সদস্য উপেন্দ্র কুশওয়াহাও পাটনার নাম বদলে পাটলিপুত্র করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বিহারের গৌরবময় ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রাচীনকালে সমৃদ্ধ একটি সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। কুশওয়াহা কেরালার নাম পরিবর্তনের বিলটিকে সমর্থন করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবটি দ্রুত বিবেচনা করা হবে।
আলোচনায় তেলুগু দেশম পার্টির সদস্য বিজয় চিন্তাকায়ালা, সিপিআইএমের এএ রহিম, বিজেপির সদস্য সুধাংশু ত্রিবেদী ও লাহার সিং সিরোয়া, কেরালা কংগ্রেস (এম)-এর জোস কে মাণি, সিপিআইয়ের সদোশ কুমার পি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের হারিশ বিরান, ইউপিপিএলের আর নারজারি এবং ডিএমডিকের এলকে সুধীশও বক্তব্য দেন।
এছাড়া সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপিও আলোচনায় অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :