জামায়াতের মতাদর্শ নিয়ে সতর্ক করলেন কওমি আলেমরা

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

জামায়াতের মতাদর্শ নিয়ে সতর্ক করলেন কওমি আলেমরা

ফাইল ফটো

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদীর মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কওমি ঘরানার আলেম ও রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাসের বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না। কওমি ঘরানার দলগুলোকেও এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে বক্তারা এ কথা বলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে গণসচেতনতা সৃষ্টি, হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন বাতিলের দাবিতে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করে।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলাম ও দেওবন্দ ঘরানার বিভিন্ন আলেম বক্তব্য দেন। তাদের কয়েকজন কওমি অঙ্গনে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটছে বলে অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, কওমি অঙ্গনে জামায়াতের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো ঐক্যও হতে পারবে না।

কনভেনশনে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলেমরা। তারা হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা, আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতকে (কাদিয়ানী) রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা এবং শ্রম আইন বাতিলের দাবি জানান।  

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর এই কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি উপস্থিত না থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। 

এতে জামায়াত সম্পর্কে বলা হয়, মওদুদীবাদের মতাদর্শিক ভুল ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণ হতে হবে কোরআন–সুন্নাহ অনুযায়ী। কোনো ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক মনগড়া ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নয়।

হেযবুত তওহীদের বিষয়ে হেফাজত আমির বলেন, দেশের ধর্মীয় শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আকিদাগত নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম ও প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের (কাদিয়ানী) বিষয়ে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হেযবুত তওহীদ পাশের কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এই সংগঠনকে অতি দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। ট্রান্সজেন্ডার আইন বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। ভ্রান্ত মতাদর্শের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকার যেন কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস না করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের পরামর্শ নিয়ে যেন ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা আবদুল হামিদ (মধুপুরের পীর) বলেন, যারা সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করে না, তারা ইসলামের শত্রু। জামায়াত কোনো দিন ইসলামের কাজ করেনি। তিনি সরকারের কাছে শামীম কায়সার লিংকনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রিত্ব দিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হানাফি মাজহাবের যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, সরকার আলেমদের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিলে তাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। দেওবন্দ ঘরানার আলেমদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ঢুকলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

একইসঙ্গে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ইমান-আকায়েদ সংরক্ষণে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। কোনো আপস করা যাবে না। যে নেতৃত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতের অধীনে থেকে হবে, সেটিকে তারা স্বাগত জানাবেন। তবে যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ভ্রান্ত মতাদর্শের কোলে উঠতে হয়, সে নেতৃত্ব তারা মানবেন না।

কনভেনশনে বিশেষ আলোচক ছিলেন পাকিস্তানের সারগোদাহের মারকাজ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পরিচালক মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। তিনি উর্দু ভাষায় বক্তব্য দেন।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবের আমির মাওলানা আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ, হবিগঞ্জের মাদ্রাসায়ে নূরে মদিনার অধ্যক্ষ আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাইয়ুম সুবহানী।

কনভেনশনে ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি আবদুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ অর্ধশতাধিক আলেম বক্তব্য দেন।

Link copied!