ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ফটো

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশে কোনো স্বৈরাচার, স্বৈরাচারী শক্তি, ফ্যাসিবাদী বা মাফিয়া শক্তির উত্থান যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। বিএনপির ইতিহাসও আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরিই ছিল ওই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বিএনপি সেই কর্মসূচির ভিত্তিতেই রাজনীতি করে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে রক্ষা করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় নেতৃত্বে পরিণত হন এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। নারী শিক্ষা ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একসময় ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। এরপর দেশে নতুন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। এসব থেকে দেশকে মুক্ত করতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির আদর্শ হলো সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর আলোকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রব্যবস্থার বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা দেখেছেন।

তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, তিনি বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমরা বলি, উই হ্যাভ এ প্ল্যান। জনগণের কল্যাণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও ভাতা দেওয়ার কর্মসূচিও অব্যাহত রাখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি জনগণভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক। সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।

প্রধান বক্তা হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে কি না- এমন প্রশ্নের সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। কৃষি, শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রযাত্রার ভিত্তি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তার স্থাপিত উচ্চমান বজায় রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা দায়িত্ব। জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতি, জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার কাজ করবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি।

Link copied!