ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘাত এড়িয়ে সহিষ্ণুতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মোহাম্মদ আসিফ ইকবাল , রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘাত এড়িয়ে সহিষ্ণুতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষ দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের পাশাপাশি সংঘাত এড়িয়ে সহিষ্ণুতার রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বলবআপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন; কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।”

রাষ্ট্রপতি জানান, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে এসে জনগণের সামনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি পূরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি নির্ধারণ ও অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে; জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভূল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক উপজেলা করার দাবিও বাস্তবায়ন হয়েছে।

বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমানবন্দর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা বেশি উপকৃত হবেন। তবে এটি সচল রাখতে হলে জেলায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শিল্প-কারখানা স্থাপনে চীনের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা পাওয়ার আশাবাদ রয়েছে।

রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ শান্তিপ্রিয়। অতীতে রাজনৈতিক কারণে অনেক মানুষকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে, সেই সময় আর দেখতে চান না। তিনি বাংলাদেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তরুণ সমাজের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে হবে। প্রবাসে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্পোর্টস ভিলেজ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে জেলার কৃষি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে কাজ চলছে।

নিজের শৈশব ও শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঠাকুরগাঁওয়ে। শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের কাছ থেকেই সততা ও নেতৃত্বের শিক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে।”

নাগরিক সংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওবাসীর ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের কাছ থেকে তিনি দূরে চলে যাননি। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”

Link copied!