ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোকশেদ আলীসহ অন্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। গত ২০ অক্টোবর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহত মোকশেদ আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস তাঁর সঙ্গে ছিলেন। আমান উল্লাহ আমান ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের শিকারীটোলা এলাকার একটি পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপির শাক্তা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোকশেদ আলী, গ্রাম পুলিশ শফিক এবং আনসার-ভিডিপির সদস্য মাহফুজসহ কয়েকজন আহত হন। মোকশেদ আলীর অবস্থা গুরুতর বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক সেখানে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁদের বাধা দিতে গেলে অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
আহত মোকশেদ আলী বলেন, যুবকদের বাধা দিতে গেলে তাঁরা হামলা চালান। এতে তিনি ও অন্যরা আহত হন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে। দ্রুত মাথার সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পূজামণ্ডপের দায়িত্বে থাকা নাড়ু গোপাল বলেন, “১৯ অক্টোবর রাতে কয়েকজন স্থানীয় যুবক চলমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রবেশ করেন। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের চলে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে আমাদের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধর্মীয় কার্যক্রম চলতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের প্রধান জানান, "ঘটনার সময় হট্টগোল ও হাতাহাতির পরিস্থিতি দেখে আমরা তা থামানোর চেষ্টা করি।পরে পুলিশকে খবর দেই।খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২ জনকে আটক করে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। "পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবিরের বাড়ি বাহেরচর এলাকায় এবং নিরবের বাড়ি বামুনশুর এলাকায়।
আপনার মতামত লিখুন :