মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
মোস্তফা কামাল , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের দূর্ঘটনা ও ক্যাম্পাসজুড়ে ভাংচুরের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।প্রথমটি চট্টগ্রাম শহর থেকে আসার সময় চৌধুরীহাট এলাকায় গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি দ্বিতীয়টি উপাচার্যের বাংলো, পরিবহন দপ্তর ও শিক্ষক ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে কোন সময়ের উল্লেখ নাই।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ। ট্রেন দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন :- সাংবাদিকতা বিভাগের ড. মোহাম্মদ সহিদউল্লাহকে আহ্বায়ক করে সদস্য করা হয়েছে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল এবং কমিটির সদস্য সচিব প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দর রাজ্জাক।
ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন:- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির আহমেদকে আহ্বায়ক করে ৩ জনকে সদস্য করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন, জামাল নজরুল ইসলাম গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী, ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. নাজনীন নাহার ইসলাম এবং সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর সৌরভ সাহা জয়।
তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। এছাড়া তদন্ত কমিটি গত ৯ সেপ্টেম্বর গঠন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও গত দুইদিন ধরে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউই এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী রাত সাড়ে ৮টার শাটল ট্রেনের ছাদে হেলে পড়া গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীরা ফটক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু চেয়ার ও পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়। পরে একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যান। একপর্যায়ে উপাচার্যের তিনতলা বাসভবনে ভাঙচুর শুরু করেন। ফুলের টব থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাব, কক্ষ, জানালা ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আসবাব বের করে উঠানে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরিবহন দপ্তরে মিছিল নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য রাখা অন্তত ৭০টি বাস ভাঙচুর করেন। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ক্লাবের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে অজ্ঞাত ১ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মামলায় না উল্লেখ করা ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনই ছাত্রলীগের অনুসারী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।