মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
মোস্তফা কামাল, চবি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার, শিষ্টাচারের শিক্ষা দিবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ১১ টায় সামাজবিজ্ঞান অনুষদে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা চিন্তা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন চবি উপচার্য।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তৈরি হবে শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী। আজকে দেশের ১৮ কোটি জনগণ শিক্ষিত হলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ প্রজন্ম এই তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে যদি দেশের উন্নয়নের কাজে লাগানো যায় তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম আফরিন ও সহকারী অধ্যাপক কাজী তাসলিমা নাসরিন জেরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এ সেমিনার। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ। তিনি সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপি’র চার শতাংশ বরাদ্দের স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু এখনো সেই সংখ্যা দুই শতাংশের বেশি হয় নি । প্রতিবছর বাজেটে শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বেশি দেখানো হয় । কিন্ত অর্থের যে একটি অবচয় হিসাব আছে তা কখনো হিসাবে নেয়া হয় না। এ ছাড়াও আছে প্রতিবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাসহ শিক্ষা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনেকগুলো গুণের মধ্যে একটি বড় গুণ ছিলো- তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন করতেন। কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনে বলা হয়েছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা হবে একমুখী। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হবে শুধু শিক্ষিত বা অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। প্রাথমিক শিক্ষা হবে একমুখী। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন দেশে সনাতনি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরনের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা। এসব স্কুলের অধিকাংশেই শিক্ষার্থীদের বাঙালির ইতিহাস বা সংস্কৃতি শেখার কোনও সুযোগ নেই। এখানে শেখানো হয় না- কিভাবে বাংলাদেশ হলো। অনেক প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে একাত্তরে বাঙালি কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল তা না জেনে।
এছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, মূখ্য আলোচক চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজউদ্দৌলা।