মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
রাজু মিয়া, নোবিপ্রবি : বিভাগের নাম অপরিবর্তিত রেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ডিগ্রি পরিবর্তন করার দাবিতে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আন্দোলন করলেও এখন পর্যন্ত ডিগ্রি পরিবর্তনের মুখ দেখেনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের কিছু শিক্ষকদের অসহযোগিতামূলক আচরণকে এর জন্য দায়ী করছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনে এই অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের নাম অপরিবর্তিত রেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অথবা ইতিহাস বিভাগে ডিগ্রি পরিবর্তন করার জন্য গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জমা দিয়েছি।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ৪টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার
আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং ইউজিসির নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলে বিএমএস বিভাগের নাম অপরিবর্তিত রেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ডিগ্রি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রেরণ করেছে। আমরা আশাবাদী ছিলাম অতিদ্রুত আমাদের বিভাগের ডিগ্রি পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানতে পারলাম আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের একাংশ ইউজিসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলকে বিতর্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক চিঠি জমা দিয়েছে। যার কারণে আমাদের ডিগ্রি পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের বিরোধিতা প্রকাশ্যে আসলে আমরা শিক্ষার্থীরা ১ নভেম্বর বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভার জন্য আবেদন করেছি এবং চেয়ারম্যান আমাদের ৫ নভেম্বর মতবিনিময় সভার জন্য সময় নির্ধারণ করলেও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকরা কোন কারণ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও ইতিহাসের শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় বসতে পারিনি। ইউজিসির সাথে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের একাংশের অসহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জীবনকে হুমকির মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি প্রকাশ করতে শিক্ষার্থীরা এই সংবাদ সম্মেলন করে। পাশাপাশি চলতি মাসের মধ্যে চলমান সমস্যার সমাধান করে দ্রুত পরীক্ষায় বসতে চায় শিক্ষার্থীরা।