মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ বছরেও চালু হয়নি ব্যাথার দানের নাইট শিফট 

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ বছরেও চালু হয়নি ব্যাথার দানের নাইট শিফট 

তাসনীমুল হাসান মুবিন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪টি বিভাগ শিক্ষার্থী সংখ্যা আট হাজারের অধিক এবং শিক্ষক দুইশতাধিক , আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী। বিপুল এই জনবলের চিকিৎসা সেবা প্রদান খুবই জরুরী একটা বিষয়। কিন্তু ডাক্তার স্বল্পতা, ঔষধ সংকট, প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট না থাকাসহ শুক্রবার ও শনিবার মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ২৪ ঘন্টা মেডিকেল খোলা না থাকায়  শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, রাত্র আটটার পর থাকেন না কোনো চিকিৎসক। শুক্রবার ও শনিবার সর্বক্ষণ বন্ধ থাকে ব্যাথার দান। ফলে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় রোগীদের। এসব বিষয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।  এক প্রকার উদাসীনতা আর খামখেয়ালিপনায় চলছে ত্রিশালের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারটি।  ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারে সর্বক্ষণিক রোগী পরিবহনের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না, ফলে রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে বেগ পেতে হচ্ছে রোগীদের। উন্নত যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
চারুকলা অনুষদের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী অন্যনা রহমান সৃষ্টি বলেন,  বাড়ী থেকে অনেক দূরে এসে পড়াশোনা করছি। যেকোনো সময় যেকোনো শিক্ষার্থীর অসুষ্থ হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্ত প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবারহে তারা সবসময়েই অবহেলা করে এমনকি রাতের বেলা মেডিকেল সেন্টারে সকল চিকিৎসা বন্ধ থাকে। চারটি হলে রোজই বহু শিক্ষার্থী অসুস্থ হচ্ছে।  রাতের বেলা কেউ অসুস্থ হলে আমাদের ত্রিশাল স্বাস্থ কমপ্লেক্সে যাওয়া লাগে।  প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং রাতের বেলা আমাদের সঠিক চিকিৎসা সেবা দিলে আমাদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে যাবে। আইন ও বিচার বিভাগ( ২০২২-২৩ সেশনের) নাঈম আজাদ বলেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টার হলো ব্যাথারদান,সন্ধা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে অন্ধকার নেমে আসে এই ব্যাথার দানে।যার ভুক্তভোগী আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা,প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ছুটে যেতে হয় ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ময়মনসিংহ শহরে।প্রতিদিন সন্ধার পরে অসংখ্য শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসে কিন্তু ফিরে যেতে হয় খালি হাতেই।সন্ধার পরপরই গেইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইমারজেন্সি কোন প্রয়োজনে ছুটতে হয় দিকবিদিক।
একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই মেডিকেল সেন্টারের সেবা কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা হোক,যেন রাতের আধারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আমাদের শহরে ছুটতে না হয়।
 মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা ১ বছরে ১০লক্ষ্য টাকা বাজেট পাই। এ বাজেট সামান্য এতে আমাদের সব ঔষধ দেওয়া সম্ভব না। ডাক্তার আর জনবল কম থাকায় আমরা নাইট শিফট চালু করতে পাচ্ছিনা।  আমারা রেজিস্ট্রার দপ্তরে আমাদের ডাক্তার চাহিদা কাগজ জমা দিয়েছি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার  কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার হল প্রথামিক চিকিৎসা কেন্দ্র। এই খানে সব ঔষুধ পাওয়া যাবে বিষয় টা এমন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে পর্যাপ্ত স্টাফের ব্যবস্থা করতে পারলে আমাদের যে নিয়মিত সিডিউল রয়েছে সেটিকে বৃদ্ধি করা যায় কি না চিন্তা করব। স্টাফ নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। এম্বুলেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দিয়েই আরও এম্বুল্যান্স কেনার কথা ভাবছি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |