মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

কোনোভাবেই যেন কাজটা মিস না হয়!

কোনোভাবেই যেন কাজটা মিস না হয়!

কোনোভাবেই যেন কাজটা মিস না হয়!

আমিরুল ইসলাম আসাদ: ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্কে কিছু বিষয়ে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের ওপর ক্ষোভ ছিল তার বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামি শিমুল ভুইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূইয়া ওরফে আমানুল্লা সাইদের সঙ্গে মতাদর্শগত পার্থক্য ছিল আনারের। তাই উভয়ে আনারকে দেশের বাইরে নিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা জানিয়েছেন আসামিরা। শুক্রবার (২৪ মে) আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান।

রিমান্ড আবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ভিকটিম আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেনসহ কিছু বিষয় নিয়ে আজীমের ওপর শাহিনের ক্ষোভ ছিল। যা সে (ভিকটিম) জানত না। এছাড়াও শিমুল ভুইয়ার সঙ্গে ভিকটিমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বন্দ্ব ছিল। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে ভিকটিম আজিমকে দেশের বাইরে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন, যেন কেউ বুঝতে না পারে। ১০ মে দেশে ফেরেন শাহীন।

এসময় তিনি আমানুল্লাহকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন কোনোভাবেই যেন কাজটা মিস না হয় এবং কোনো প্রমাণ যেন না থাকে। আবেদনে আরও বলা হয়, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৩ মে আসামি শিমুল ভুইয়া, তানভীর ও শিলাস্তি রহমানসহ পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিরা নৃশংসভাবে আনারকে হত্যা করে লাশ গুম করেন। যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। এরপর তারা দেশে ফিরে আসেন। গত বুধবার (২২ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

মামলার অভিযোগে মুনতারিন ফেরদৌস ডরিন উল্লেখ করেছেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বাসায় আমরা সপরিবারে বসবাস করি। ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা আনোয়ারুল আজীম আনার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাই। ১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। এতে লিখা ছিল, ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি রয়েছে। আমি অমিত সাহার কাজে নিউ টাউন যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। আমি পরে ফোন দেব।

এছাড়া, আরও কয়েকটি বার্তা আসে। ক্ষুদে বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজ করতে থাকি। কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও আমরা খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে বাবাকে অপহরণ করেছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |