মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে বিড়ালছানার লোভ দেখিয়ে অপহৃত সেই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বিড়ালছানার লোভ দেখিয়ে অপহৃত সেই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

বিড়ালছানার লোভ দেখিয়ে অপহৃত শিশু আয়নীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ মার্চ) ভোরে নগরীর পাহাড়তলী থানার পুকুরপাড়া মুরগীর ফার্ম এলাকা থেকে অপহৃত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শিশুটিকে অপহরণের পর থেকে আসামী রুবেল তার দাড়ি কেটে ও বেশভূষা পরিবর্তন করে এলাকায় অবস্থান করছিলো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘শিশুটিকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেছে সবজি বিক্রেতা রুবেল। এসময় শিশু আয়নী চিৎকার করায় শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরবর্তী সময়ে মরদেহটি বস্তাবন্দির পর সবজির ঝুড়িতে করে রাতেই পুকুরপাড়া মুরগীর ফার্ম এলাকায় ফেলে দেয় ঘাতক রুবেল। নিহত শিশু আবিদা সুলতানা আয়নী নগরীর পাহাড়তলী থানার কাজীরদিঘি এলাকার আব্দুল হাদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। আটক সবজি ব্যবসায়ী রুবেলও একই এলাকার বাসিন্দা।

জানা যায়, গত ২১ মার্চ আরবি পড়তে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী আবিদা সুলতানা আয়নী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোথাও না পেয়ে থানায় মামলার চেষ্টা করেন স্বজনরা। কিন্তু থানায় মামলা না নেওয়ায় মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২- এ মামলার আবেদন করেন শিশুটির মা। মামলায় মো. রুবেল নামের সবজি বিক্রেতাকে আসামি করা হয়। আবেদনের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শরমিন জাহান পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরাসরি এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ওই শিশুর মা চট্টগ্রামে ও বাবা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মা চাকরিতে গেলে শিশুটি তার দাদীর কাছে থাকতো। কয়েকদিন আগে শিশুটি তার মাকে বলে, স্কুলের এক বান্ধবী বিড়ালছানা কিনেছে, সেও কিনবে। পাশাপাশি বলে, রাস্তায় বসা এক সবজি বিক্রেতা তাকে আরেকজনের কাছ থেকে বিড়ালের বাচ্চা এনে দেবে বলেছে। তবে শিশুটির মা তাকে জানিয়ে দেয়, কারও কাছ থেকে কিছু না নিতে এবং বেতন পাওয়ার পর তিনিই বিড়ালছানা কিনে দেবেন। এর কয়েক দিনের মাথায় শিশুটি বিকেলে আরবি পড়তে যাওয়ার পর আর ফিরে না এলে তার দাদী ফোনে কর্মস্থলে মাকে বিষয়টি বলেন। এরপর শিশুটির মা দ্রুত এসে সব স্থানে খুঁজেও মেয়েকে পাননি।

 

পরে শিশুটির মা আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখতে পান, ঘটনার আগের দিন ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে স্কুলে বিরতির সময় রুবেল কৌশলে শিশুটিকে তার বাসায় নিয়ে যান। আর ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজে দেখতে পান, বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে শিশুটি বোরকা পরে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। ওই সময় রুবেলের সঙ্গে সে কথা বলছিল। একপর্যায়ে রুবেল বাজারের থলেতে একটি বিড়ালছানা শিশুটির হাতে তুলে দেয়। এরপর রুবেল ও শিশুটিকে আর দেখা যায়নি।
শিশুটির পরিবার ধারণা করে, বিড়ালছানার নাম করেই বাসায় নিয়ে গিয়েছে শিশুটিকে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আয়নীকে রুবেল অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |