মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

মচিমহায় কর্মচারির চাকরি অবসরে স্বস্তি

মচিমহায় কর্মচারির চাকরি অবসরে স্বস্তি

মোরশেদ মারুফ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল বিতর্কিত ও সমালোচিত হিসাব রক্ষক (এ্যাকাউন্টেন্ট) মোঃ হাবিবুর রহমানের চাকুরি থেকে অবসর অর্থাৎ বিদায়ের সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে তার দ্বারা নিগৃহীতসহ সমাজের নানা শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি সাধারণ মানুষদের হয়রানি করতেন। ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চালু রাখতে এবং ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, ১২ এপ্রিল ছিল তার শেষ কর্মদিবস। জীবনের দীর্ঘ ২৫ বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কি করে বদলি ছাড়াই চাকুরি করলেন ? প্রশ্ন তাদের। এই চাকুরির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল টাকার মালিক বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়াও গড়ে তুলেছেন বৈভব অদৃশ্য ক্ষমতার দাপট। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই হাসপাতালে তাকে নিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ লেগেই ছিল। একাধিকবার সমালোচনার ঝড় ওঠে তাকে নিয়ে। গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তারপরেও বিশেষ খূূঁটির জোড়ে এতদিন বহাল ছিলেন। সিন্ডিকেট নিয়ে তার চলাফেরা দেখে এলাকাবাসীর মাঝে আতংঙ্ক সৃষ্টি হতো। সাধারণের ভীতি প্রদর্শনের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আউটসোর্সিং সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যো অভিযোগ তুলে উল্টো হয়রানি করতেন। হাসপাতালের হিসাবপত্র নিজেই করে নানাভাবে আত্মসাৎ করায় ব্যাপক সমালোচনা হয় তাকে নিয়ে।

 

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে মামলা সহ হয়রানির ভয় দেখানো, সাংবাদিক তার রুমে প্রবেশাধীকারে ছিল কড়াকরি। এছাড়াও তার সাথে অফিসের অনেক কর্মকর্তার সাথে ভালো ব্যবহার ছিল না। এসবও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তখন থেকেই। টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলায় জড়ানোর কথা বলে বেড়াতের তিনি। তার কারণে হাসপাতালের স্টাফদের সুনাম নষ্ট হয়। ন্যায় অন্যায় বুঝতে চাইতেন না।নিজের মনমতো কাজ করতেন। তার সিন্ডিকেটের কাছে এখনও হাসপাতালের লোকজন অনেকেই জিম্মি । ময়মনসিংহ শহরে রয়েল মিডিয়াসহ ৩টি কলেজ রয়েছে তার।

 

এসবও তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন। এসবের উৎস তার চাকুরি ও পদবী। তার কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ যেমন চিকিৎসা ও সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন তেমনি সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জিম্মী চিল।তিনি এবং তার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হওয়ার ঘটনা আজও লোকমুখে বলাবলি হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ধোপাখোলার মোড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন আলীসান বাড়ি। বিলাসবহুল বাড়ি দেখে সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তার আরও নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ রয়েছে, যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে, আরো অনেক অজানা সম্পদের কাহিনীও জনসন্মুখে চলে আসবে এমনটাই দাবী ভূক্তভোগীর। আগে সাধারণ মানুষ থাকলেও হাসপাতালের চাকরিতে ময়মনসিংহে যোগদানের পর রুপ বদলে যায়।

ময়মনসিংহে দীর্ঘ দুই যুগের কর্মকান্ডে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আর এভাবেই অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। জানা গেছে, ২০১৮ সালে তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নজড়ে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের। সাত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নিয়ে দুদক এখনও তদন্ত করছে । তদন্তের চললেও কেউ মুখে মুখে বলাবলি করছেন তদন্ত মিমাংসা হয়ে গেছে। সম্প্রতি আজিজুর রহমান নামের জনৈক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে তদন্তের দাবিতে সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমি চাকরি করেছি, আমার সম্পদ আছে, তা থেকে আজ এত সম্পদ হয়েছে। কোন দুর্নীতি করে সম্পদ গড়েনি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |