মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শায়লা শারমিন, ত্রিশাল থেকে ফিরে : সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচন । নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থীও পরাজয়ের পর লাগোয়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও মাঠে ঘাটে বলাবলি ও কানাঘুষা হচ্ছে এই নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে। প্রতিবেশী অঞ্চল হিসাবে প্রথমেই আলোচনা সমালোচনা আগামীর দিকনির্দেশনাসহ দলীয় হাইকমান্ড আগামীতে এমপি হিসাবে যথাযথ প্রার্থী এবং দলীয় নেতা নির্বাচন করার দায়িত্ব বর্তায় হাইকমান্ডে।
মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা, গ্রুপিং লোবিং টাকা আর পেশি শক্তির কাছে দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা কর্মীরা সুবিধা বঞ্চিত হওয়া রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও নিজেদের অবদানের কথাগুলো বলছেন পথে ঘাটে। একই ফর্মুলা প্রয়োগ হলে আওয়ামী লীগের ঘাটি দূর্গ হিসাবে পরিচিত ত্রিশালের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
দলের নীতি নির্ধারকরাই বা গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরো বেশি গুরুত্ব দেবেন বলে দাবি তাদের।
জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তীর আন্দোলন লড়াই সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেমনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তেমনি জাতির জনকের হত্যার পর নানান নির্যাতন কারাবরণ এমনকি জামায়াত রাজাকার বিএনপির দোষড়ের রোষানলে ত্রিশালে অনেকে জীবনও বিলিয়ে দিয়েছেন ।
স্থানীয়ভাবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি শ্রেণির সুবিধাবাদী আওয়ামী বিরোধী চক্র দলের নেতৃত্ব বাগিয়ে নিয়েছে। দলীয় সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে তারাই । পক্ষান্তরে ত্যাগিরা নির্যাতিত। এইসব সুবিধাবাদী পরগাছা ।
এসব ছাড়াও তাদের ভিন্ন ভিন্ন অপকর্মে নানাভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে তারা নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষে দলীয় প্রধানের নির্দেশনাকে বৃদ্ধিঙ্গুলি দেখিয়ে কৌশলে নানান দুর্নীতি অনিয়ম দলীয় শৃখলা ভঙ্গ গ্রুপিং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বাহিনী গঠনের মাধ্যমে নিজ কুকর্ম স্বার্থসিদ্ধি , কালো টাকা অর্জনের মাধ্যমে বাড়ি গাড়ি , ধন সম্পদের জৌলুস তাদের চোখে মুখে চলনে বলনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতা কর্মী আছেন যারা বলছেন, আ,লীগে যারা ত্যাগি তারাই প্রকৃত আ.লীগ তাদেরকে কোনঠাসা করে সুবিধাবাদী শ্রেণির স্বার্থন্বেষীর দলীয় পদবী ব্যবহার করে নিজে নিজের আত্বীয়- স্বজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসহ নানান ফায়দা হাসিল করছেন ।
উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা- কর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অধিকাংশ আসনেই এই অবস্থা । তাদের অভিযোগ এমপিরা উপজেলার আসনগুলিতে কম আসেন , মানুষ ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন ধরেন না , কথা দিয়ে কথা রাখেন না,থানা পুলিশের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও নিরহ লোকদের হয়রানি করেন।
স্থানীয়ভাবে না পেয়ে তাদে খুঁজতে অনেকে ঢাকা গিয়েও না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে এলাকায় ফিরেন । এতে নেতাকর্মীরা এমপি ও নেতা বিমুখ হয়ে পড়ছেন । সুবিধাবঞ্চিতদের সংখ্যার পাল্লায় ভাড়ি হচ্ছেন । বঞ্চিতদের সুর একজোট সুদৃঢ হচ্ছে। বাড়ছে হু হু করে। তাদের দাবী, এমপি ও নেতা কর্মীদের বলয়ে আবৃতরা সুবিধাবাদী এরাই দল ডুবাচ্ছে নষ্ট করছে দলের ভাবমূর্তি।
ত্রিশাল উপজেলার সর্বত্র ঘুরে নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেল, প্রতিবেশী জেলা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কথা রসিয়ে রসিয়ে বলছেন, এখানকার পৌরসভার মেয়র আনিছুজ্জামান আনছিকে দেখিয়ে ।
তারা বলছেন, আ,লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও তিনি ২ বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন । ছাত্রলীগ , যুবলীগ রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম শেষে আওয়ামীলীগের পরিচ্ছন্ন মহলে তার জনপ্রিয়তার জুড়ি নেই।
গাজীপুরের মত ত্রিশাল পৌরসভা নির্বাচনে জয়ের মালা পড়িয়েছেন মেয়র আনিছকে। এমপি হিসাবে তিনি মনোনয়ন পেলে আরো অনেক ভোটের ব্যবধানে বিরোধী দলকে কাবু করতে তার বিকল্প নেই এমন বলছেন ত্রিশালের প্রবীন আওয়ামী লীগের নেতা ফজলে রাব্বি ।
ত্রিশাল ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কর্মী আজিজুল ইসলাম বলেন , বিগত সময়ে জোটের স্বার্থে জাতীয় পার্টির আব্দুল হান্নান, পরবর্তীতে বর্তমান এমপি রুহুল আমীন মাদানিকে মনোনয়ন দেয়া হয় আওয়ামীলীগ থেকে । নানা কারণে এখন এই উপজেলায় দলীয় নেতা- কর্মীদের মাঝে বিশৃংখলা চরমে পৌছেছে ।
সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জড়িয়ে এমপি রুহুল আমিন মাদানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়ার পর বিতর্ক চরমে উঠে। তুমুল সমালোচনা তোলপাগ সৃষ্টির পর দলীয় গ্রুপিং লোবিং প্রকাশ্যে আসে। এসব বিবেচানায় বিতর্ক পাশ কাটিয়ে যোগ্য হিসাবে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েছেন ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এ বি এম আনিছুজ্জামান আনিছ।
ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল৷ : এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ২শত ৩৮ জন। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি এখন দলীয় কোন্দল এখন শুরু হয়েছে । গত একটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ছেড়ে দিলে লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে জাপার এমপি হন আলহাজ্ব এম এ হান্নান। তার অবর্তমানে এখান থেকে জেলা জাতীয় পার্টির জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিয়ার সুরুজ আলী মন্ডল মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এমপি হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার, পৌর মেয়র ও ত্রিশাল উপজেলার সাবেক যুবলীগ সভাপতি এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ, আ,লীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক জননেতা ইকবাল হোসেন,
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম হাবিুর রহমান খান, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আলম পাঠান মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও রামপুর ইউনিয়নের ২ বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নবী নেওয়াজ সরকার, ময়মনসিংহ জেলা বারের সভাপতি ও ত্রিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট জিয়াউল হক সবুজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এএনএম শোভা মিয়া আকন্দ ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মন্ডল মনোনয়ন চাইবেন।
ত্রিশাল উপজেলাতেও আওয়ামী লীগের এখন একাধিক ধারা। গ্রুপিং চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ বিভক্তি মূলত আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। তবে ত্রিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন আলোচিত মুখ হচ্ছেন মেয়র আলহাজ্ব আনিছুজ্জামান আনিছ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক জননেতা ইকবাল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) নজিব আশরাফ, ব্যাংকার হাবিবুর রহমানও নেতা ও কর্মীরাও নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।