বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

বড় দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের লিগ্যালিটি শূন্যের কোটায়: সিইসি

বড় দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের লিগ্যালিটি শূন্যের কোটায়: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন,বড় দলগুলো অংশগ্রহণ করলো না, নির্বাচনের লিগ্যালিটি, ল্যাজিটিম্যাসি শূন্যের কোটায় চলে যেতে পারে। ডিপেন্ট করবে। সেটা আপেক্ষিক। ল্যাজিটিম্যাসি, লিগেলিটির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। লিগেলি নির্বাচন শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ল্যাজিটিমিট হয়তো হবে না। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিক নানা প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ইভিএম বাতিল হলে কি করে সুষ্ঠু করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা ইভিএমেও যেমন পুরোপুরি সম্ভব নয়, ব্যালটেও পুরোপুরি সম্ভব নয়। বিষয়টা আপেক্ষিক হতে পারে। অধিকতর ভাল, যেটা আমরা সব সময় বিশ্বাস করেছিলামম যে ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ভোটটা অনেক বেশি নিরাপদভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়। কাজেই শতভাগ নিশ্চিত করার কথা আমি বলতে চাচ্ছি না।

চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল কিনা, সেটা আমরা এখনো বলতে পারবো না। আমরা প্রথম থেকে বলেছি সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াস শেষ পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। আমরা জোর কাউকে আনতে পারছি না। কিন্তু আপিল আমরা করেই যাবো। আমাদের কথায় যে সাড়া দেবেন তাও নয়। সংকট সরকারের সঙ্গে দলগুলোর হয়ে থাকে। বা সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের হয়ে থাকে। আমরা বলবো রাজনৈতিক সেই সয়কটগুলো আপনারাই নিরসন করে নির্বাচনকে সহজ এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য অনুকূল করে দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ইসির রুল প্লে করার কোনো সুযোগ নেই। এটাই আমাদের রুল, আপনারা আসেন নির্বাচনে। আপনারা নিজেদের মধ্যে সংলাপ করুন। সংলাপ করে বিরাজমান কোনো দূরত্ব যদি থাকে, কোনো সংশয় যদি থাকে এবং বিরোধ থাকে, তা মিটিয়ে ফেলে নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করুন।

সমঝোতা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভবতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা আমি বলতে চাচ্ছি না। এক কথায় বলেছি, সবগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ইভিএম থেকে আমরা সরে এসেছি সেদিন। এটা নিয়ে বাজারে একটা আছে যে, এটা কি চাপে করা হলো, না ওইটা করা হলো। এটা নিয়ে কিন্তু আমরা কমিশন দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। প্রথমে আমাদের কোনো একটা দলের প্রত্যাশা ছিল ৩০০ আসনেই ইভিএম। সবকিছু শুনেটুনে ১৫০টা করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

তিনি আরও বলেন,১২০০ নির্বাচন হয়েছে। সেখানে একটাও অভিযোগ পড়েনি যে আমরা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ম্যালফাংশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ভূত আছে বা ইয়ে আছে কি বলে, দশটা ভোট দিলে তিনটা ভোট থাকে, সতটা ভোট থাকে না। কাজেই আমরা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। এটা একেবারেই সত্য নয়। আমরা পুরোপুরি বিশ্বাস। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস দিয়ে তো হবে না, যদি অংশ না নেয়।তবে আমরা অর্থ পেতাম তাহলে আমরা করতাম। নয় হাজার কোটি চেয়েছিলাম, সেটা যদি পেতাম তা দিয়ে করতে পারতাম। সেটা সরকার এগ্রি করেনি। এরপর মেরামতের জন্য ১২০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, সেটা দিলেও এগ্রি করতে পারেনি সরকার বিভিন্ন কারণে।

সিইসি বলেন,আমাদের হাতে থাকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার এরকম ইভিএম। তখন আমরা দ্বিধাবিভক্ত হলাম। দু’জন কমিশনার জোরোশোরেই বললেন এই ২৫, ৩০টাই আমরা করে ফেলি। আমরা দেখলাম লাইফটাইম শেষের দিকে, যদি ম্যালফাংশন করে, তাই আমরা ইভিএম থেকে সরে এলাম। দীর্ঘসময় আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা সম্পূর্ণরুপে আমরাদের সিদ্ধান্ত। কারো চাপে করা হয়নি।

“ইভিএম নিয়ে সিদ্ধান্ত দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। দু’জন বলেছে ২০ থেকে ৩০টি হোক। আমরা তিনজন আবার বললাম না, করছিনা। যার ফলে এই সিদ্ধান্ত এলো।”
তিনি বলেম,সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। আমরা চেষ্টা করবো সীমিত সাধ্যের মধ্যে। তবে এটা সত্য ব্যালটে রিগিং প্রতিহত করা যত কষ্টকর, ইভিএমে মোটেই অতটা কষ্টকর নয়। অনেকেই বলেন যে রাতে ভোট হয়ে গেছে, সত্য আমি জানিনা, তবে একটা পারসেপশন ক্রিয়েট হয়ে গেছে, রাতেও ভোট হতে পারে।

কিন্তু ইভিএম সকাল ৮টা আগেই চালুই হবে না। ইট ইজ সো অটোমেটিক। ন্যূনতম সুযোগ নেই। এদিক থেকে ইভিএমে সুযোগ ছিল, যেটা ব্যালটে নেই। আমরা তুলনামূলক বললাম। আবা ইভিএম ব্যয়বহুল, ব্যালট তত নয়।

কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,যদি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় তবে। কেন্দ্রগুলোতে যে ভারসাম্য সৃষ্টি হয় সেটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো কেবল করে না, সেখানে সনাতন প্রক্রিয়া হচ্ছে দলগুলো থাকবে, তাদের একনিষ্ট এজেন্টরা থাকবে। তারা মিলে এই সাতটা, আটটা ঘণ্টা কাজ করবে। তারা যদি না থাকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ভেতরে থাকবে না। কাজেই বাইরেরটা আমরা দেখতে পারবো। কিন্তু ভেতরেও কারচুপির সুযোগ থাকে। কাজেই এই জিনিসটা, তারা যতি আলোচনা করে একটা গ্রজণযোগ্য পদ্ধতি এনে দেন আমাদের অনুকূল হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আগাম ভোটের কোনো প্রশ্ন আসেনি। আগাম ভোটের কোনো প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছিনা। একাডেমিকলি আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, ওটাকে কেউ মিসকনসিভ করে প্রচার করেছে যে আগাম নির্বাচনের সম্ভবনা আছে। এটা একেবারেই সঠিক নয়। আমরা ডিসেম্বরের শেষ অথবা আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |