মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার পূর্ব কাউয়ারখোপ এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুল জব্বার (৩৬) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন বিজিবির তিন সদস্য। গত শনিবার রাতে পূর্ব কাউয়ারখোপ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আব্দুল জব্বার রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বইলতলী গ্রামের জাকের আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রড-সিমেন্টের দোকানের শ্রমিক। কাউয়ারখোপ ইউপির চেয়ারম্যান শামসুল আলম, সদস্য আজিজুল হক ও গ্রামবাসী তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবে বিজিবির দাবি, আব্দুল জব্বার চোরাকারবারি। আহত বিজিবি সদস্যরা হলেন– নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির হাবিলদার মোহাইমিনুল ইসলাম, নায়েক মো. লুৎফর রহমান ও আবুল কালাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে মিয়ানমার থেকে পাচার করে আনা ৫-৬টি গরু পূর্ব কাউয়ারখোপ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় জব্দ করেন বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। জব্দ গরুগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় পাচারকারীরা। এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে তারা ইট-পাটকেল ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়েন বিজিবির সদস্যরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আব্দুর জব্বার নিহত হন। ঘটনার পর তাঁর লাশ নিয়ে যান বিজিবি সদস্যরা।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল জব্বার চোরাচালানে জড়িত ছিলেন না। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে উৎসক জনতার সঙ্গে তিনিও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এর পর সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পরিবারের সদস্যরা জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আব্দুল জব্বারের লাশ গতকাল দুপুরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১১ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাই গরু জব্দের পর টহল দল হেঁটে ক্যাম্পে ফিরছিল। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে কাউয়ারখোপ এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি, দুষ্কৃতকারী ও স্থানীয় সহযোগী প্রায় ২০০-৩০০ জন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। টহল দলের সবাই কমবেশি আহত এবং তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে বাধ্য হয় টহল দল। এতে এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় একনালা বন্দুক, একটি ক্রিচ ও দা জব্দ করা হয়। আহত বিজিবি সদস্যদের চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত তিন সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে মামলাসহ আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
রামু থানার ওসি আনোয়ারুল হোসাইন জানান, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি।
কে,আই,এ/ঈ,ম