মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

নৌকা না পেলে বিদ্রোহী ?

নৌকা না পেলে বিদ্রোহী ?

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিন হাজার ৩৬২ জন। এরই মধ্যে কিছু বিভাগের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করেছে দলটি। প্রতিটি আসনে নৌকা প্রতীকের একক প্রার্থী দেবে দলটি। কিন্তু অনেক আসনেই আওয়ামী লীগ নেতাদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পরই মনোনয়নবঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবেন। তবে, এখনই বিদ্রোহীদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না দলটি। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “আগে আমরা দেখি কারা বিদ্রোহ করে, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।” ইতোমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কাজও শেষ। আজ শেষ হচ্ছে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড সভা। সেই সভা শেষে আজ কিংবা কাল ৩০০ আসনে নৌকার মাঝিদের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। শুধু মনোনয়ন চূড়ান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, এরই মধ্যে ১৫টি নির্বাচনী উপ-কমিটি গঠন করেছে দলটি। নির্বাচনী ইশতেহার কমিটিও রয়েছে এর মধ্যে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ ততই বাড়ছে। শুধু কেন্দ্রে নয়, তৃণমূল পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সব জায়গায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
কেউ কেউ আবার বলছেন, দীর্ঘদিন যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করার জন্য হলেও জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রয়োজন। জনগণের প্রয়োজনে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এই চার দিনে মোট তিন হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে ১২১ জন ফরম কিনেছেন। ফরম বিক্রি করে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় হয়েছে দলটির। ঢাকা বিভাগে বিক্রি হয়েছে ৭৩০টি ফরম। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫৯টি, সিলেট বিভাগে ১৭২টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯৫টি, বরিশাল বিভাগে ২৫৮টি, খুলনা বিভাগে ৪১৬টি, রংপুর বিভাগে ৩০২টি এবং রাজশাহী বিভাগে ৪০৯টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। কয়েকটি বাদে প্রতিটি আসনে নৌকার মাঝি হতে লড়ছেন ১১ জন। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমরা একটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত করব। দীর্ঘদিন যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারাই তো মনোনয়ন চাচ্ছেন। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে অনেকেই ‘বিদ্রোহী’ বলি বা ‘স্বতন্ত্র’ বলি— নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে, দলীয়ভাবে এখনো বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি।

আমাদের নেত্রী দলীয় প্রার্থীকে পাস করিয়ে আনতে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই সবাই একযোগে কাজ করবেন।” অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিগত সময়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, এবার তা হবে না। এবার সেই সুযোগ নেই।” যদিও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে এখন পর্যন্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মুখে একটি শব্দও শোনা যায়নি। একাধিক নেতা বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি করতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, তারা (বিএনপি) দেশে-বিদেশে নেতিবাচক বার্তা দিতে চায়। সেই বার্তা যেন দিতে না পারে সেজন্য নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। তবে, এবার তৃণমূল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে লড়তে হবে নৌকার প্রার্থীদের। বিএনপিবিহীন নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ হবে কি না- তা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |