মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ-চট্টগ্রাম: বর্তমানে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন মহানগর যুবলীগ নেতা ও সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজম রনি।বিশেষ করে দলের তরুণ আর উদীয়মান নেতাদের কাছে নুরুল আজম রনি হয়ে উঠেছেন এক অনুকরণীয় নেতা। তবে এজন্য তাকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।লড়াই করতে হয়েছে বিএনপি জামায়াত-শিবিরের সাথে। এ জন্য তাকে রাজনীতিতে শক্তিপ্রয়োগও করতে হয়েছে। তাই বর্তমানে চট্টগ্রামে বিএনপি, জামায়াত আর শিবিরের কাছে এক আতঙ্কের নাম নুরুল আজম রনি । ২০১৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাবার আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রনি’র পরিচিতি ছিল না বললেই চলে। পদ পাবার পর ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে ফেসবুকে এবং ব্লগে রনি’র লেখনীর সঙ্গে পরিচিত হন । পেট্রোল বোমার আন্দোলনের যুগে রনি’র ক্ষুরধার লেখনী ছিল জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সরব রনি, যে অবস্থান তিনি ধরে রেখেছেন এখনও।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার অবরোধের কারণে পর্যটন শিল্পে ধস
তবে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে থাকা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ও সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দখলমুক্ত করে রনি একেবারে তোলপাড় ফেলে দেন। এই দুটি কলেজকে চট্টগ্রামে বলা হত জামায়াত-শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট। এই দুটি কলেজে অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবির চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় নিজেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছিল। আশির দশকে ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেন ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা শাহাদাতকে হত্যার মধ্য দিয়ে কলেজ দুটি দখলে নিয়েছিল শিবির। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ শিবিরের কাছ থেকে কলেজ দুটি উদ্ধারের কোন পদক্ষেপ নেননি। বরং অনেকে জামায়াতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কলেজ দুটি শিবিরের দখলে রাখতে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ আছে। সেসময় রনি প্রায় একার সিদ্ধান্তে নিজের অনুসারীদের নিয়ে কলেজগুলো দখলমুক্ত করেছিলেন। ৩৫ বছর পর প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি উঠেছিল কলেজগুলোতে। শুধু ছাত্রলীগ নয়, বাম ছাত্রসংগঠনসহ প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল।
২০১৬ সাল থেকে রনি শুরু করেন চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা কার্যকরের আন্দোলন। ভর্তি, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণে বাড়তি টাকা নেয়া যাবে না-এই দাবিতে স্কুল-কলেজের সামনে মানববন্ধন শুরু করেন। জানুয়ারিতে স্কুলে ভর্তির সময়, এসএসসি পরীক্ষার পর কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে, এইচএসসি পরীক্ষার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না সেটা নজরদারি শুরু করে মহানগর ছাত্রলীগ। কোথাও ব্যত্যয় হলেই রনি’র নেতৃত্বে শুরু হত আন্দোলন। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৭টি করা হলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে দিনের পর দিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট করেন রনি। সভা-সমাবেশে রনির সাবলীল, যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যও সবার নজর কাড়ে।
২০১৭ সালে এসে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভাষায় এই ‘শিক্ষা আন্দোলন’ আরও জোরদার করেন রনি। ছাত্রলীগ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে বর্ধিত ফি নেয়ার অভিযোগ জানাতে বক্স স্থাপন করে। জেলা প্রশাসককে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে। ৬৮টি স্কুলের তালিকা প্রকাশ করে যারা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা নেয়। এর মধ্যে ১১টি ছাড়া বাকি সব স্কুল বাড়তি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। ছাত্রলীগের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬টি স্কুলের অনুমতি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই আন্দোলন করতে গিয়েই রনি মূলত রোষানলে পড়ে প্রভাবশালী মহলের। অনেক স্কুলের পরিচালনার দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা কিংবা তাদের পরিবার। এসব স্কুলের কোন-কোনটিও যখন তালিকায় চলে আসে তখন তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে রনির বিরুদ্ধে সরব হন। অনেকে প্রশাসনকে রনির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে বরাবর রনি গণমাধ্যমের বড় অংশের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন।