নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার : কক্সবাজারে কুখ্যাত তালিকা ভুক্ত ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও দখলবাজ সেলিম গংয়ের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন স্থানীয় একজন সমাজপতি নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল ১২ নভেম্বর রবিবার পরিবার কতৃক এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম নুরুর স্ত্রী এসব কথা বলেন । সংবাদ সম্মেলন তিনি আরো বলেন, সেলিম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। তার নেতৃত্বে চলছে এলাকায় দখলবাজী। দীর্ঘদিন জমি বিরোধের জের ধরে সেলিম ও তার লালিত পালিত সন্ত্রাসীরা মিলে স্থানীয় সমাজপতি নুরুল ইসলাম নুরুর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে আছে। একেরপর এক সাজানো মিথ্যা মামলা সহ নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে সমাজ ও প্রশাসনের কাছে হেয় করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিপর্যস্ত এখন নুরুর পরিবার।
উল্লেখ্য যে,গত ৯ নভেম্বর নুরুল ইসলাম একটি পারিবারিক শালিশের জন্য কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে মসজিদ মার্কেটের পাশ্বে এডভোকেট রুবেলের চেম্বারে যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও একই এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা । শালিস বৈঠক শেষ করে বের হওয়া মাত্রই কোর্ট বিল্ডিং চত্বর থেকে সাদা পোশাকধারী দুইজন লোক তাকে স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী উপস্থিত জনতার সামনে ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয় । একপর্যায়ে পাশ্বে থাকা সিএনজি তে তুলে নিতে শালিসে আসা স্থানীয় লোকজন তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে। আপনারা কারা ? তারা উত্তর দেয় আমরা র্যাব বলে সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায় । কিন্তু ঐসময় নুরুল ইসলাম থেকে কিছুই ছিলনা। শুধুমাত্র একটি বাটন মোবাইল ছাড়া তার সাথে কিছু ছিলনা। তাকে একটি পুরাতন মারামারি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরিশেষে দুইদিন পর ১১ নভেম্বর আনুমানিক রাত ২:৩০ মিনিটের সময় র্যাব কতৃক একটি দেশীয় অস্ত্র ও তিনটি গুলাবারোধ উদ্ধার দেখিয়ে একটি অস্ত্র মামলা দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্থানান্তর করেন। যেটি সম্পুর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট ভিত্তিহীন।
তিনি আরো বলেন, তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও দখলবাজ সেলিম ও তার আপন চাচাতো ভাই রেজাউল করিম এই অস্ত্র মামলার সাক্ষী হয়। এই থেকে ধরে নেয়া যায় যে, সেলিম জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কোন প্রকারে ফাঁসাতে না পেরে যেকোন ভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এমন জগন্যতম কাজ করেন বলে দাবী করেন নুরুল ইসলামের পরিবার। ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম নুরুর স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার স্বামী গত বৃহস্পতিবার দুপুরের নামাজ শেষ করে ভাত খাওয়ার পর কোর্টে একটি স্থানীয় বিষয় নিয়ে শালিস আছে বলে বাসা থেকে বের হন। সাথে এলাকার আরও বেশ কয়েকজন মানুষ আছেন । সাথে মসজিদের ইমামও ছিলেন । ঐ দিন ঠিক বিকালে আমার স্মামী নুরুল ইসলাম নুরুকে বিচার শালিস শেষ করে এডভোকেট রুবেলের চেম্বারের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু এর দুইদিন পর আমার স্বামীকে অস্ত্র মামলা দিয়ে চালান দেয়। কান্না কন্ঠে আরও বলেন আমার স্বমী সম্পুর্ন নির্দোষ। আমার স্বামীকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইয়াবা সেলিম ফাঁসিয়েছে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে সবসময় একেরপর এক ইয়াবা সেলিম মামলা দিয়ে আসছে। কিন্তু কোন মামলায় কার্যকর হয়নি। পরিশেষে আমার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর পায়তারা করে র্যাবকে দিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ছে। যেটির এক নং সাক্ষী ঐ মাদক ব্যবসায়ী সেলিম ও তার চাচাতো ভাই রেজাউল।
আমার স্বামী সম্পুর্ন নির্দোষ আমি আমার স্বমীর বিষয়টি বিষেশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যহতি দিয়ে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলামের মা বলেন, আমার ছেলে নিরপরাধ,আমার ছেলে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং সমাজ কমিটির সভাপতি আমার ছেলে একজন নামাজি এবং প্রতিবাদী।ইয়াবা ব্যবসায়ী সেলিম দীর্ঘদিন ধরে আমার ছেলের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমার ছেলে কিছু জায়গা জমি কিনে রঞ্জিত মল্লিক নামের এক হিন্দু পরিবার থেকে। এবং কিছু পাওয়ার দিয়েছে আমার ছেলে দেখাশোনা করতে। আর ঐ জায়গাগুলো সেলিম দখলে নিতে মরিয়া। আমার ছেলের জন্য সে অনেক মিথ্যা মামলা করেছে। কিন্তু কোন মামলা সঠিক না হওয়ায় ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। তাই পরিশেষে আমার ছেলেকে ইয়াবা সেলিম প্রশাসনকে টাকা দিয়ে কোর্ট বিল্ডিং চত্বর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মিথ্যে অস্ত্র মামলা দিয়ে চালান দেয় ।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে র্যাব ১৫ এর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নুরুল ইসলাম নুরুকে আরসা এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠনের অস্ত্র পাচারকারীর সদস্য বলে। এবং লারপাড়া এলাকায় মাহবুব আলমের সুপারি বাগান থেকে কোমড়ে অস্ত্র নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৃত করে গ্রেপ্তার দেখায় । যেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। স্থানীয় ও উল্লেখিত ঘটনাস্থলের লোকজনের দাবি ৯ তারিখ এবং ১ মাস যাবৎ এখানে কোন দৌড়াদৌড়ি ও এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাশেম বলেন, গত ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আমি ও নুরুল ইসলাম নুরু সহ একটি পারিবারিক শালিস নিয়ে কোর্ট বিল্ডিং চত্ত্বরে এডভোকেট রুবেলের চেম্বারে যায় , সেখানে শেষ করে চেম্বার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ে নুরুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়। দুইদিন পর র্যাব অস্ত্র মামলা দিয়ে চালান দেয় । কিন্তু তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় কোন কিছু পাওয়া যায়নি। অস্ত্র মামলাটি সম্পুর্ন ভূঁয়া এবং মিথ্যা। সংবাদ সম্মেলনে, তদন্তপুর্বক ষড়যন্ত্রমুলক মামলা থেকে নুরুল ইসলাম নুরুকে অব্যহতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।